৬০ হাজার কোটির প্রণোদনা: অর্থনীতি চাঙ্গা নাকি লুটপাটের নতুন আয়োজন?
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার নামে ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা তহবিল নিয়ে তীব্র শঙ্কা ও সংশয় প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
দলটির যুগ্ম-মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এক বিবৃতিতে এই বিপুল অঙ্কের তহবিলের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একই সঙ্গে ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছেন তিনি।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বন্ধ কারখানা চালু, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও চলতি মূলধনের জন্য এই বিশাল তহবিল ঘোষণা করে ২৫ লাখ কর্মসংস্থানের আশা ব্যক্ত করেন। তবে এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক মনে করলেও অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে শঙ্কা প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন।
গাজী আতাউর রহমান বলেন, গভর্নরের এই যুক্তি কেবল একজন ব্যবসায়ীর দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। বিশেষ করে যেখানে বর্তমান বিএনপি সরকার নিজেই অন্তত ৪৫ জন ঋণখেলাপিকে নির্বাচনে মনোনয়ন দিয়েছিল এবং তাদের মধ্যে ১১ জন বর্তমানে সংসদে এমপি হিসেবে বসে আছেন, সেখানে ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সরকারি প্রতিশ্রুতির ওপর জনগণের আস্থা রাখা কঠিন।
বিবৃতিতে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। অভিযোগ করা হয়েছে যে, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার কার্যক্রম বর্তমানে স্থবির হয়ে পড়েছে এবং টাকা পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ‘ফিচ রেটিংস’ ইতিমধ্যে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক আউটলুককে ‘স্থিতিশীল’ থেকে ‘নেতিবাচক’ করেছে। এছাড়া আইন সংশোধন করে এস আলমের মতো বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানকে আবারও ফিরে আসার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
এমন এক নাজুক পরিস্থিতিতে ৬০ হাজার কোটি টাকার এই তহবিল সাধারণ মানুষের মনে সংশয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ স্পষ্ট জানিয়েছে, অর্থনৈতিক স্বার্থে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, তবে তা কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা লুটেরাদের স্বার্থে নয়। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দেশের সম্পদ আর লুট হতে দেওয়া যাবে না উল্লেখ করে, এই তহবিলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি সমন্বিত নজরদারির দাবি জানিয়েছে দলটি।
আ.দৈ/আরএস/এ এইচ এইচ




















