রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রশাসনে রদবদলে প্রাধান্য পাচ্ছে গোয়েন্দা সংস্থার মতামত
নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ৭:০০ পিএম  আপডেট: ২৩.০৫.২০২৬ ৮:৪৪ পিএম  (ভিজিট : ৬৫)
X

দেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে রদবদলের হাওয়া বইছে। একদিকে চলছে পদোন্নতির মহোৎসব, অন্যদিকে চলছে বাধ্যতামূলক অবসরের কড়া প্রক্রিয়া। তবে এই পুরো প্রক্রিয়ার নেপথ্যে মেধার চেয়ে রাজনৈতিক আনুগত্য ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে বলে তীব্র গুঞ্জন উঠেছে।

গত বছর সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদার ২৬৮ জন কর্মকর্তাকে উপসচিব পদে উন্নীত করেছে সরকার। এর মধ্যে দেশের অভ্যন্তরে ২৬২ জন এবং বিদেশে নিয়োজিত ৬ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। এই পদোন্নতিতে মূলত ৩০তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তাদের বিবেচনা করা হয়েছে। ঢাকায় তাঁরা ২০২২ সালেই চাকরির ১০ বছর পূর্ণ করে দীর্ঘ প্রতীক্ষায় ছিলেন। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, উপসচিব পদের মোট আসনের ৭৫% প্রশাসন ক্যাডার এবং বাকি ২৫% অন্যান্য ক্যাডার থেকে পূরণ করার কথা থাকলেও এবার ভিন্ন সমীকরণ কাজ করছে। 

সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন ঈদের পরই সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের আরেকটি বড় পদোন্নতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। এই লক্ষ্যে ‘সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড’ (এসএসবি)-এর বৈঠক ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং যোগ্য কর্মকর্তাদের একটি ‘ফিট লিস্ট’ তৈরির কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

প্রেশনের অন্দরের খবর বলছে, এবারের পদোন্নতি প্রক্রিয়া কেবল দাপ্তরিক যোগ্যতার ওপর নির্ভর করছে না। কোনো কর্মকর্তার অতীত বা ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা কী ছিল, তা কঠোরভাবে খতিয়ে দেখছে দেশের ৪টি ভিন্ন ভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। মূলত এই গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সবুজ সংকেত বা ‘গ্রিন সিগন্যাল’-এর ওপরই নির্ভর করছে কার ভাগ্যে জুটবে পরবর্তী পদোন্নতির পদক।

গত ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনে পদোন্নতি, রদবদল ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়ে প্রশাসনিক রদবদলের একটি বড় পরিসংখ্যান সামনে এসেছে। তথ্যানুযায়ী, বিভিন্ন স্তরে মোট ৭৮৫ জন কর্মকর্তাকে নিয়মিত পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫ জন সচিব বা সিনিয়র সচিব, ২৬ জন গ্রেড-১, ১৪৯ জন অতিরিক্ত সচিব, ৪২৪ জন যুগ্ম সচিব এবং ১৪১ জন উপসচিব রয়েছেন।

একই সময়ে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্য থেকেও বড় একটি অংশকে ‘ভূতাপেক্ষ’ পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, যার মোট সংখ্যা ৭৬৪ জন। এই তালিকায় আছেন ১১৯ জন সচিব, ৪১ জন গ্রেড-১, ৫২৮ জন অতিরিক্ত সচিব, ৭২ জন যুগ্ম সচিব এবং ৪ জন উপসচিব। এর বাইরেও বিভিন্ন ক্যাডারের বঞ্চিত ও অবসরপ্রাপ্ত আরও ৭৮ জন কর্মকর্তাকে সম্প্রতি ভূতাপেক্ষ পদোন্নতির সুপারিশ করেছে বিশেষ পর্যালোচনা কমিটি।

অপরদিকে মুদ্রার উল্টো পিঠে এই পদোন্নতির জোয়ারের সমান্তরালে চলেছে বাধ্যতামূলক অবসরের এক কঠোর প্রক্রিয়া। নির্দিষ্ট সময়ে কর্মকাল শেষ হওয়ায় স্বাভাবিক নিয়মে অবসরে গেছেন ১৬৪ জন কর্মকর্তা, যাঁদের পদমর্যাদা উপসচিব থেকে সচিব পর্যন্ত। কিন্তু একই সময়ে সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলকভাবে অবসরে পাঠানো হয়েছে মোট ২৯ জন কর্মকর্তাকে। এর মধ্যে ৯ জন সচিব বা সিনিয়র সচিব, ১ জন গ্রেড-১ এবং ১৯ জন অতিরিক্ত সচিব রয়েছেন।

একদিকে বিপুল সংখ্যক পদোন্নতি আর অন্যদিকে ঢালাও বাধ্যতামূলক অবসরের এই বিপরীতমুখী স্রোত প্রশাসনিক চেইনে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। কর্মকর্তাদের মাঝে বর্তমানে চরম মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। ৩০তম বিসিএসের কর্মকর্তাদের কাঙ্খিত পদোন্নতিতে একদলের মাঝে স্বস্তি ফিরলেও, যোগ্য ও বঞ্চিত কর্মকর্তাদের বড় একটি অংশের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দানা বাঁধছে। অনেকে একে প্রশাসনের ভেতরে একটি অস্থিতিশীল বা ‘যগাখিচুড়ি’ পরিস্থিতি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা জানান, আগের সরকারের আমলে প্রশাসনকে যেভাবে দলীয়করণ করে নিজেদের মতো ঢেলে সাজানো হয়েছিল, বর্তমান প্রশাসনও ঠিক একই পথে হাঁটছে। যোগ্যতার চেয়ে রাজনৈতিক আনুগত্য এবং গোয়েন্দা রিপোর্টকে পদোন্নতির মূল চাবিকাঠি বানানো হচ্ছে, যা প্রশাসনের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষতা ও চেইন অব কমান্ডকে ভেঙে দিচ্ছে।

তবে সরকারের উচ্চপর্যায়ের দাবি ভিন্ন। প্রশাসনের দায়িত্বশীলদের মতে, বর্তমান সরকার একটি ‘মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করছে। প্রশাসনে যোগ্যতা ও সততার ভিত্তিতেই নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনাই এই সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য। আর প্রশাসনে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক চাপা অসন্তোষ ও প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা দূর করতেই মূলত ঈদের পর নতুন করে আরেকটি বড় পদোন্নতির মাধ্যমে একটি কৃত্রিম ভারসাম্য আনার চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। 

 আ. দৈ./ কাশেম/ হেলাল






Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝