অবৈধভাবে নতুন সদস্য করে প্লট দেয়ার পায়তার চলছে
প্রত্যাশা সমবায় সমিতির সম্পাদকসহ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক :

প্রত্যাশা সমবায় সমিতির সম্পদকসহ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ
প্রত্যাশা সমবায় সমিতি লিমিটেডে নতুন সদস্য গ্রহণ এবং আবািসক প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সুনিদিষ্ট অভিযোগ উঠেছে। সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং প্রভাবশালী একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি নিয়মের বাইরে জোরপূর্বক বেআইনী ভাবে সাবেক এক আমলাকে অন্তভূক্ত করে প্লট বরাদ্দ দেওয়ার পায়তারা চলছে বলে অভিযোগে উঠেছে।
গতবছর ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত উক্ত সমিতির এক সাধারণ সভায় কোরাম সংকটের মধ্যেই সমিতির নীতি, আদর্শ,ধারা ও উপধারা অমান্য করে একজন সাবেক আমলা সমিতির নতুন সদস্যপদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছেন বেশকয়জন প্রভাবশালী কর্মকর্তা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, প্রত্যাশা সমবায় সমিতি লিমিটেডের বিদ্যমান সদস্য সংখ্যা ৩৮৭ জন। এরমধ্যে ২৯ জন সদস্যকে ইতোপূর্বে প্লট দেয়া সম্ভব হয়নি। কারণ প্লটের চাহিদা পুরণে প্রয়োজনীয় জমি না থাকায় পুরনো ওই ২৯ জন সদস্যকে এখনো প্লট বরাদ্দ যাচ্ছ না। ভবিষ্যতে আবাসিক প্রকল্পের প্রয়োজনীয় উন্নয়নের পর আগে ওই ২৯ জন সদস্যকে প্লট বরাদ্দ দিতে হবে। তাদেরকে প্লটবিহীন সদস্য হিসেবে রেখে নতুন সদস্য গ্রহণ এবং প্লট বরাদ্দ দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
ওই ২৯ জন প্লটবিহীন সদস্যকে বঞ্চিত করে বিধি বহির্ভূতভাবে নতুন করে সদস্য অন্তর্ভুক্তি করলে সমিতির উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে মারাত্নক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। এমতাবস্থায় সমিতিতে ৩৮৭ সদস্য থাকার পরে নতুন করে কোন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার এখতিয়ার আইনগতভাবে সমিতির কোন কর্মকর্তার নেই।
আরো উল্লেখ্য, গত বছর ২৫ জানুয়ারীতে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভার কার্যবিবরনীতে সাবেক সচিব আবদুস সান্তারকে সমিতির সদস্য অন্তর্ভূক্ত করার বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত দেখানো হয়েছে, তার আইনীগত কোন ভিত্তি নেই,যা সম্পূর্ণ অবৈধ। আর কোরামহীন ওই সাধারণ সভায় সাবেক সচিব আবদুস সাত্তারকে সদস্য অন্তর্ভূক্ত করার বিষয়ে আগে কোন প্রস্তাব কারা হয়েছে মর্মে কার্যবিবরনীর আলোচ্য সূচিত কখনো আলোচনা হয়নি।
সমিতির কার্যবিবরণীর ৬ নং পৃষ্ঠার (৬) নং সিদ্ধান্তে আবুদস সান্তারের যে সহযোগীতা বা অবদানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা আহনযোগ্য ও হাস্যকর। কারণ ৩২ বছর পূর্বে প্রতিষ্ঠিত প্রত্যাশা সমবায় সমিতি লিঃ আবাসন প্রকল্পে ইতোপূর্বে সরকারী বরাদ্দে উন্নয়নের জন্য ৫০ কোটি টাকার কাজ হয়েছে। যা এখনো চলমান। সুতরাং কোন ব্যাক্তি ও হুট করে উড়ে এসে অবদানের গল্প শুনালে তা আমলে নেয়ার কোন যৌক্তিকতা নেই। এরপেছনে অবশ্যই ব্যক্তিস্বার্থ,কুমতলব এবং হীনউদ্দেশ্য থাকতে পারে। প্রত্যাশা সমবায় সমিতির উন্নয়ন কাজের জন্য বিদ্যমান সাধারণ সদস্যগণই যথেষ্ঠ ছিল এবং এখনও আছেন।
আরো উল্লেখ্য যে, সমিতির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান সরকারের উচ্চতর লোভনীয় পদে আসীন হওয়ার জন্য সাবেক সচিব আবদুস সাত্তারকে মই হিসেবে ব্যবহার করতে চান। তিনি প্রত্যাশ্য সমবায় সমিতিকে কাজে লাগিয়ে ঘৃণ্য কার্যক্রমে জড়িয়ে যাচ্ছেন। এধরনের ঘৃনীত কাজকে সমিতির সদস্যরা প্রতিহিত করার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। এটা তাদের পবিত্র দায়িত্ব।
সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান এবং তার সহযোগি কতিপয় কর্মকর্তার উচিত নিজেরা বৈআইনী কোন কাজ করতে গিয়ে নিজেরা বিপদে না পড়া এবং সাবেক সচিব আবদুস সাত্তারকেও বিপদ মুক্ত রাখা। এ ধরণের মতলবী কাজ থেকে নিজেদেরকে গুটিয়ে নেয়া উচিত। এখনো সময় আছে ওই ২৯ সদস্যকে আগে প্লট দেয়া। তা না হলে, তারা আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হবেন। যার ফলশ্রুতিতে প্রত্যাশা সমবায় সমিতির অর্জিত সুনাম এবং চলমান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ মামলা দায়েরও হতে পারে।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য- গতবছর ২৫ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় ৭৯ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সমিতির মোট সদস্য সংখ্যা ৩৮৭ জন। প্রত্যাশা সমবায় সমিতি লিঃ এর উপ আইন এর ২৮ নং ধায়ার (ক) ও (খ) উপধারা অনুযায়ী এক চতুর্থাংশ সদস্য প্রয়োজন। তাই গতবছর ২৫ জানুয়ারী সাধারণ সভার কোরাম পূর্ণ হয়নি।
কোরাম বিহীন কোন সভার কোন প্রকার আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার নেই। তাই এ কারণে সাবেক সচিব আবদুস সাত্তারকে সমিতির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান আগ্রহী হয়ে ৩৮৮ নং সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার একক সিদ্ধান্ত উদ্দেশ্য প্রণোদিত। এক চতুর্থাংশে অর্থাৎ কোরাম পূর্ণ হওয়ার জন্য সদস্য প্রয়োজন ৯৭ জন। আর গত বছর ২৫ জানুয়ারী (২০২৫ সালে) উপস্থিত সদস্য ছিল মাত্র ৭৯ জন। অথাৎ কোরাম পূর্ণ হয়নি।
প্রত্যাশা সমবায় সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাহী কমিটির আবদুস সাত্তারকে নতুন সদস্য পদ দিয়ে প্লট বরাদ্দ দেওয়া সংক্রান্ত কার্যক্রম গ্রহণ করার কোন এখতিয়ার নেই।
বিসিএস (প্রশাসন) কল্যান বহুমুখী সমবায় সমিতির বিষয় খিলক্ষেত প্রকল্প গ্রীন ভ্যালী আবাসন প্রকল্পের অফিসে অগ্নি সংযোগ/ক্ষয়ক্ষতি/অর্থিক কেলোরটি। ০২ জন নিরাপরাধ কর্মচারীর মৃত্যু ঘটিয়ে নথিপত্র/ প্রমাণ ফাংস/ ডকুমেন্টস ফাংস ইত্যাদি ঘটনা/কেলেংকারী ধারাবাহিকভাবে আসবে । প্রত্যাশা সমবায় সমিতির বিষয়াবলী গতবছর ২৫ জানুয়ারী প্রত্যাশা সমবায় সমিতির সাধারণ সভা কোরাম সংকটের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান কর্তৃক বিভিন্ন মিটিংয়ের রেজুলেশন সঠিকভাবে সৃজন না করে মতলবী ভাবে সৃজন করা। যারফলে আবদুস সাত্তার এবং মশিউর রহমানের কর্মকান্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
আ. দৈ./কাশেম




















