ভোগান্তি কমছেনা অনলাইন জিডিতে
ইসমাঈল হুসাইন ইমু

সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে অনলাইনে জিডি করার পদ্ধতি চালু করে পুলিশ। কিন্তু বাসায় বসে অনলাইনে জিডি করলেও থানায় যেতেই হচ্ছে সেবাপ্রত্যাশীদের। আবার অনেক থানায় সার্ভার না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে আশপাশের দোকানে গিয়ে অনলাইনে জিডি করতে হচ্ছে। থানায় জিডি করতে টাকা না লাগলেও টাকা দিতে হচ্ছে দোকানে। একটি জিডি করতে ২শ’ টাকা নিচ্ছে দোকানদার। ভোগান্তি কমাতে অনলাইনে জিডির এই পদ্ধতিতে উল্টো ভোগান্তির শিকার হচ্ছে মানুষ।
সম্প্রতি আবুল কাশেম নামের একজন রমনা থানায় যান মোবাইল হারানোর বিষয়ে জিডি করতে। দীর্ঘ সময় তাকে বসিয়ে রেখে বলা হয় সার্ভার পাওয়া যাচ্ছেনা। পরে সার্ভার পেলেও মোবাইলের আইএমইআই নম্বর ঠিক নেই বলে জিডি করা যাবেনা। পরে তিনি বাধ্য হয়ে একটি দোকানে গিয়ে অনলাইনে জিডি করেন। বংশাল থানায় জিডি করতে যান আতাউর নামের এক ব্যক্তি।
তাকে বলা হয় হারানো মোবাইলের বক্স নিয়েঢ আসতে। আইএমইআই নম্বর দিলেও সার্ভারের কারণ দেখিয়ে তার জিডি নেওয়া হয়নি। পরে পাশে কম্পিউটারের দোকানে গিয়ে তিনি ২শ’ টাকা দিয়ে অনলাইনে জিডি করেন। কাজ এখানেই শেষ না। তাকে আবার থানায় গিয়ে জিডির কপি সংগ্রহ করতে হয়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একই চিত্র চলছে বলে জানা গেছে।
এদিকে থানায় না গিয়ে ঘরে বসে বা যে কোনো স্থান থেকে জিডি করা যায় অনলাইনে। এতে সেবাপ্রত্যাশীদের সময় যেমন সাশ্রয় হয়, থানায় যাওয়ার ঝক্কিঝামেলাও পোহাতে হয় না। তবে এই স্বস্তি উধাও হয়ে যায়, জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ছবি, অনলাইন পোর্টাল বা অ্যাপসে প্রবেশ ও তথ্যপ্রদান সংক্রান্ত জটিলতাসহ নানা ভোগান্তির শিকার হয়ে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে এনআইডির ছবির সঙ্গে বর্তমান (লাইভ) ছবির মিল খুঁজতে গিয়ে। ছবির মিল (ম্যাচ) না হওয়ায় জিডি করতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে বিপুলসংখ্যক সেবাপ্রত্যাশীকে। বাধ্য হয়ে তাদের থানায় গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার সহায়তা নিয়ে অনলাইনে জিডি করতে হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনলাইন জিডি প্ল্যাটফর্ম (মফ.ঢ়ড়ষরপব.মড়া.নফ) বা অনলাইন জিডি অ্যাপসে প্রবেশে সমস্যা, সঠিক তথ্য দিতে না পারা এবং সেবাপ্রত্যাশীর কারিগরি জ্ঞানের অভাবে অনলাইনে জিডি করতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয। তখন ভুক্তভোগী সেবা পান না। এর ফলে ঝুলে থাকে থানা পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ। যে কোনো ধরনের হারানো সংক্রান্ত জিডি অনলাইনে করা গেলেও গুরুত্বপূর্ণ জিডি বা অভিযোগের ক্ষেত্রে সেবাপ্রত্যাশীকে শেষ পর্যন্ত থানায় যেতে হয়। এসব কারণে এখনও অনলাইনে জিডি ব্যবস্থা কাঙ্খিত সাড়া ফেলেনি সেবাপ্রত্যাশীদের কাছে। ভুক্তোভোগীরা বলেছেন, অনলাইন জিডি প্রক্রিয়া পুলিশের একটা সফল উদ্যোগ। কিন্তু জিডি এন্ট্রি করতে গিয়ে কঠিন প্রক্রিয়া তাদের বিড়ম্বনায় ফেলছে। এটা আরও সহজ করা দরকার।
পুলিশ জানায়, সংশ্লিষ্ট থানা থেকে সেবাপ্রত্যাশীর অভিযোগের ধরন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে সেবাপ্রত্যাশীকে অবগত করা হবে। অভিযোগের বিষয়টি যদি জিডির যোগ্য হয়, তাহলে সেটি জিডি নম্বর এবং তদন্ত অফিসারের বিবরণীসহ ডিজিটাল জিডির কপি পাঠানো হবে। অভিযোগের বিষয়টি যদি মামলার যোগ্য (আমলযোগ্য অপরাধ) হয়, সেক্ষেত্রে অভিযোগের প্রিন্ট কপি অথবা অভিযোগের কোড নম্বরসহ সেবাপ্রত্যাশীকে থানায় উপস্থিত হতে হবে।
এনআইডি অপশন না থাকলে যে কেউ অন্যের নামে ভুয়া জিডি করতে পারে ফাঁসানোর জন্য, যাতে এ ধরনের ঘটনা ঘটে এ জন্য এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যিনি জিডি করবেন তার পরিচয় নিশ্চিত করতেই এনআইডি রাখা হয়েছে। এনআইডির সঙ্গে ছবি এবং তথ্যের সঙ্গে ম্যাচিং হলেই কেবল জিডির জন্য রেজিস্ট্রেশন করা যাবে।
জিডি করতে যে কোনো অভিযোগ অনলাইনে করার পর সংশ্লিষ্ট অভিযোগটি থানার অফিসার ইনচার্জের ড্যাশ বোর্ডে চলে আসবে। যাচাই-বাছাইয়ের পর সাবমিট দিলেই জিডি হয়ে যাবে। তবে মামলার বিষয় হলে তখন অফিসার জিডি করতে পারবেন না। অফিসার অভিযোগটি প্রক্রিয়াধীন রাখবেন এবং সেবাপ্রত্যাশীর কাছে একটি ম্যাসেজ পাঠাবেন।
পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২২ সালের ২১ জুন সীমিত আকারে অনলাইন জিডি চালু করা হলেও তখন হারানো এবং উদ্ধার ছাড়া আর কোনো বিষয়ে জিডি করা যেত না। বাকি অপশনগুলো তখন বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। এখন সব অপশন খোলা। অনেক আগে তোলা এনআইডির ছবির রেজুলেশন ভালো না। ফলে অনেক সময় লাইভ ছবির সঙ্গে এনআইডির ছবি ম্যাচ করছে না। তবে ৯৫ শতাংশ মিললেই রেজিস্ট্রেশন করে নেওয়া হচ্ছে।
আ.দৈ/আরএস




















