পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান :আব্দুল মুক্তাদির
নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা, উদ্ভাবন, গবেষণা এবং পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "সাস্টেইনেবিলিটি এখন আর কেবল একটি স্লোগান নয়; এটি শিল্পের অস্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ টিকে থাকার অপরিহার্য শর্ত।" আজ রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়েন ঢাকা-এ আয়োজিত “Grand Launching Event of Textile Innovation Exchange” শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ সীমিত। তাই টেক্সটাইল শিল্পে টিকে থাকতে হলে শক্তি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে হবে, পানির পুনঃব্যবহার (Water Recycling) নিশ্চিত করতে হবে এবং সার্কুলার উৎপাদন ব্যবস্থা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রতিটি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
দেশের তৈরি পোশাক শিল্প গত কয়েক দশকে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করলেও এর রপ্তানি এখনো সীমিত কিছু পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে স্পোর্টসওয়্যার (খেলাধুলার পোশাক), ম্যান-মেড ফাইবারভিত্তিক (কৃত্রিম আঁশ) পোশাক এবং টেকনিক্যাল টেক্সটাইলসহ উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্যের ওপর জোর দিতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) বাজারে দাপট ধরে রাখতে এবং এলডিসি (LDC) উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে পণ্যের বহুমুখীকরণ ও নতুন বাজার অনুসন্ধানে আরও সক্রিয় হতে হবে।
সরকারের বন্ধ শিল্পকারখানাগুলোর আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত জানিয়ে বলেন, পুরোনো যন্ত্রপাতি অপরিবর্তিত রেখে অকার্যকর কারখানায় আর কোনো অর্থ ব্যয় করা হবে না। এর পরিবর্তে শিল্পভেদে উপযোগী সমাধানের মাধ্যমে কোথাও নতুন শিল্পপার্ক গড়ে তোলা হবে, আবার কোথাও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) অথবা লিজের মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা হবে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় বেসরকারি খাতের অভিজ্ঞ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বস্ত্র খাতের পাশাপাশি চামড়া, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং শিপবিল্ডিং (জাহাজ নির্মাণ) শিল্পকেও আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।
বাণিজ্য ও পাটমন্ত্রী 'টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জ'-এর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, শিল্প ও একাডেমিয়ার মধ্যকার সহযোগিতা এবং উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দেশের টেক্সটাইল শিল্প আরও আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব হয়ে উঠবে। সরকার সর্বদা এই ধরনের উদ্ভাবনী উদ্যোগের পাশে থাকবে। বক্তব্য শেষে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন করেন এবং বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।
অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য দেন প্রফেসর ড. ইঞ্জিনিয়ার মো. জুলহাস উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনামুল হক খান, প্রফেসর ড. ইঞ্জিনিয়ার আইউব নবী খান, মো. আব্দুল হামিদ এবং ইঞ্জিনিয়ার মো. এনায়েত হোসেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইঞ্জিনিয়ার মো. শামসুজ্জামান এবং সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন ইঞ্জিনিয়ার এহসানুল করিম কায়ছার।
আ. দৈ./কাশেম/ হেলাল




















