ডুবল মতিঝিল, ভাসল ক্ষোভ: এক সন্ধ্যার বৃষ্টিতেই থমকে গেল রাজধানী
নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ বুধবার (১৩ মে) দুপুরে মেঘ জমলেও বিকেলে নামা বৃষ্টিতে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই স্থবির হয়ে পড়ে রাজধানী ঢাকা। বিশেষ করে দেশের বাণিজ্যিক কেন্দ্র মতিঝিল এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে তৈরি হয় চরম ভোগান্তি, যা 'স্মার্ট সিটি'র স্বপ্ন ও নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
বিকেল থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণে সন্ধ্যা হওয়ার আগেই মতিঝিল শাপলা চত্বর, সাবেক বিমান অফিস এবং হোটেল পূর্বাণী সংলগ্ন রাস্তাগুলো ছোটখাটো নদীতে পরিণত হয়। কোথাও গোড়ালি আবার কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় ব্যাহত হয় স্বাভাবিক জনজীবন। ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে ম্যানহোল দিয়ে ময়লা পানি উপচে পড়তে দেখা যায়, যা অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই রাস্তাগুলোকে বিশালাকার পুকুরের রূপ দেয়।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন অফিস ফেরত মানুষ। রাস্তায় পানি জমে যাওয়ায় বাস চলাচল ধীর হয়ে যায় এবং অনেক যানবাহন মাঝপথে বিকল হয়ে পড়ে। এই সুযোগে রিকশা চালকরা কয়েক গুণ বেশি ভাড়া দাবি করতে থাকেন। নিরুপায় হয়ে অনেককে প্যান্ট গুটিয়ে নোংরা পানির মধ্য দিয়েই গন্তব্যের উদ্দেশ্যে হাঁটতে দেখা যায়। এক বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, নিয়মিত ট্যাক্স দেওয়ার পরও যদি সামান্য বৃষ্টিতে মতিঝিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সাঁতার কাটতে হয়, তবে এই উন্নয়নের কোনো সার্থকতা নেই।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, ড্রেনেজ লাইনের স্বল্প ধারণক্ষমতা এবং বর্জ্যে নালাগুলো ভরাট হয়ে থাকাই এই জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ। এছাড়া শহরের প্রাকৃতিক জলাধারগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি সরার কোনো পথ পাচ্ছে না। সিটি করপোরেশনের নিয়মিত তদারকির অভাব এবং অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়ি এই দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
পরিশেষে বলা যায়, মতিঝিলের এই চিত্র আবারও প্রমাণ করল যে, উপরিভাগের চাকচিক্য বাড়লেও শহরের তলদেশের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এখনো অত্যন্ত নাজুক। রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্র যদি সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যায়, তবে জলাবদ্ধতা নিরসনে কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। রাত বাড়ার সাথে সাথে পানি নামতে শুরু করলেও নগরবাসীর মনে জমে থাকা ক্ষোভ যেন কোনোভাবেই কমছে না।
আ. দৈ./কাশেম/ হেলাল




















