রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
একনেকে প্রকল্প পাস
৫ দশক পর আলোর মুখ দেখছে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প
শাহীন রহমান
প্রকাশ: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৭:৪৮ পিএম  আপডেট: ১৩.০৫.২০২৬ ৭:৫৫ পিএম  (ভিজিট : ৫৮)
X

ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার কোটি টাকার বেশি
ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে অভ্যন্তরীন নদীগুলোতে পানির প্রবাহ বাড়বে
কৃষি ও অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে
রাজবাড়ির পাংশ উপজেলার হাবাসপুরে হবে এই ব্যারাজ 

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও অর্থনীতি রক্ষায় এবং শুষ্ক মৌসুমে পানিসঙ্কট দূর করতে সাড়ে ৩৪ হাজার কোটি টাকার পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন করেছে সরকার। বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ প্রকল্প অনুমোদন করা হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।

বিএনপি সরকার গঠনের পর তৃতীয় একনেক বৈঠকে এসে প্রথম মেগা প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হল। ২০৩৩ সালের জুনের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেব বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকার এ প্রকল্পের পুরো অর্থায়ন হবে সরকারের টাকায়। 

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের ধারণা প্রথম আসে ১৯৬০-এর দশকে, কিন্তু এটি বাস্তব আলোচনায় আসে ১৯৭৫ সালের পর। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর বুধবার এটি একনেকের বৈঠকে অনুমোদন দেয় হয়।  এর আগে ভারতের ফারাক্কা বাঁধ চালু হওয়ার পর (১৯৭৫-এর পর) বাংলাদেশে শুষ্ক মৌসুমে পানিসংকট বাড়ে। এরপর পদ্মা ব্যারাজকে একটি সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে গুরুত্ব দেয়া হয়। ১৯৯০-এর দশক থেকে ২০০০-এর দশকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করে।

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। ক্ষমতায় আসার ২ মাসের মধ্যে এই সরকারের অধীনে প্রথম কোন বড় প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। রাজবাড়ির পাংশা উপজেলায় হাবাসপুর ইউনিয়নে পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়নের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে।  পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি গত ৬ মে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কারিগরি সমীক্ষা ও সম্ভ্যবতা জরিপের কাজ শেষ হয়ে আসার তথ্য দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি সেদিন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

ভারতের ফারাক্কা ব্যারাজ চালুর পর থেকেই বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা ও গড়াই নদীতে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, বাগেরহাটসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে লবণাক্ততা বেড়েছে। এর প্রভাবে কৃষি উৎপাদন কমেছে, সুপেয় পানির সংকট তীব্র হয়েছে এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়েছে। পানি বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, একসময় দক্ষিণাঞ্চলের প্রাণ হিসেবে পরিচিত বহু নদী এখন প্রায় মৃতপ্রায়। গড়াই নদীর প্রবাহ কমে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে অনেক এলাকায় নদীর তলদেশ জেগে ওঠে। এতে সেচব্যবস্থা, নৌ চলাচল এবং মৎস্যসম্পদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের মতে, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে এসব নদীতে নিয়ন্ত্রিত পানি সরবরাহ সম্ভব হবে এবং কৃষি ও অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।


ভারতের ফারাক্কা বাঁধের কারণে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশে যে পানির অভাব দেখা দেয় এবং এর ফলে যে মরুকরণ ও লবণাক্ততার সৃষ্টি হয়, তা রোধ করাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। প্রস্তাব অনুযায়ী, রাজবাড়ী জেলার পাংশা পয়েন্টে পদ্মা নদীর ওপর একটি ব্যারেজ নির্মাণ করে পানি সংরক্ষণ করা হবে, যা থেকে খাল বা ক্যানেলের মাধ্যমে কৃষিজমিতে পানি সরবরাহ করা যাবে। একই সঙ্গে নদীর নাব্য রক্ষা, লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ এবং মৎস্যসম্পদ উন্নয়নেও এ প্রকল্প ভূমিকা রাখবে। খুলনা, ঢাকা, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের ১৯টি জেলা এ প্রকল্পের আওতায় আসবে। হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতী, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী নদী ব্যবস্থাপনাকে পুনরুজ্জীবিত করার কথা বলা হয়েছে প্রকল্প নথিতে। পাশাপাশি সুন্দরবনে স্বাদু পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা, যশোরের ভবদহসহ জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকায় পানি নিষ্কাশনের উন্নয়ন এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ি প্রকল্পের মূল অংশ হল পদ্মা ব্যারেজ, যা ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো হিসেবে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে গেট, ১৮টি আন্ডার স্লুইস, দুটি ফিশ পাস ও নেভিগেশন লক। এ ছাড়া গড়াই অফ-টেক, চন্দনা অফ-টেক ও হিসনা অফ-টেক অবকাঠামো নির্মাণের কথা রয়েছে প্রকল্পে। একই সঙ্গে ১১৩ মেগাওয়াটের জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনাও দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে মূল ব্যারাজ থেকে ৭৬ দশমিক ৪ মেগাওয়াট এবং গড়াই অফ-টেক থেকে ৩৬ দশমিক ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে হাইড্রো পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণের কথা বলা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় গড়াই-মধুমতী নদীতে ১৩৫ দশমিক ৬০ কিলোমিটার ড্রেজিং এবং হিসনা নদী ব্যবস্থাপনায় ২৪৬ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজ করা হবে। এ ছাড়া ১৮০ কিলোমিটার এফ্লাক্স বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে এ প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব, আন্তঃদেশীয় নদী ব্যবস্থাপনা, বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে পানি বণ্টন নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে। এর আগে প্রকল্পটি কয়েক দফা একনেক সভায় উপস্থাপন করা হয়েছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রকল্পটি একনেক সভায় উপস্থাপন করা হলেও তখন অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

ফারাক্কা ইস্যু, জলবায়ু পরিবর্তন ও দক্ষিণাঞ্চলের পরিবেশগত সংকট নতুন করে প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে বিশাল ব্যয়, পরিবেশগত ঝুঁকি এবং আন্তঃসীমান্ত পানি কূটনীতির জটিলতা নিয়ে বিতর্কও সমানতালে বাড়ছে। ইতোমধ্যে একাধিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও কারিগরি মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়েছে। বিদেশি বিশেষজ্ঞরাও এ প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, এটি শুধু একটি ব্যারাজ নয়; বরং দক্ষিণাঞ্চলের পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো পরিকল্পনা।

তবে প্রকল্পটি ঘিরে বিতর্কও কম নয়। পরিবেশবিদ ও নদী গবেষকদের একটি অংশ বলছেন, পদ্মার মতো বিশাল ও গতিশীল নদীর ওপর ব্যারাজ নির্মাণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত পলি জমে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রকল্পটি কাঙ্খিত সুফল নাও দিতে পারে। একই সঙ্গে নদীর জীববৈচিত্র্য, মাছের প্রজনন ও প্রাকৃতিক প্রবাহব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা। বিশেষজ্ঞের মতে, নদী ব্যবস্থাপনার পরিবর্তে শুধু অবকাঠামোনির্ভর সমাধানে জোর দিলে ভবিষ্যতে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে। তারা বলছেন, আন্তঃসীমান্ত পানি কূটনীতি জোরদার, নদী খনন, পানি সংরক্ষণ এবং সমন্বিত অববাহিকা ব্যবস্থাপনাই হতে পারে টেকসই সমাধান।

এদিকে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালে শেষ হতে যাচ্ছে। ফলে নতুন করে বাংলাদেশ-ভারত পানি আলোচনায়ও পদ্মা ব্যারাজ ইস্যু গুরুত্ব পাচ্ছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যৎ পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে এখন আরও সক্রিয় ও কৌশলগত অবস্থান নিতে হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সঠিক পরিকল্পনায় বাস্তবায়ন করা গেলে পদ্মা ব্যারাজ দেশের কৃষি ও শিল্প খাতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক লাখ হেক্টর জমিতে সারা বছর সেচ সুবিধা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি নদীপথে নৌ চলাচলও বাড়বে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে যে লবণাক্ততা বাড়ছে, তা নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হতে পারে এই প্রকল্প। 


ইমপ্যাক্ট অব দ্য ফারাক্কা ড্যাম অন থ্রেশহোল্ডস অব দ্য হাইড্রোলজিক ফ্লো রেজিম ইন দ্য লোয়ার গ্যাঞ্জেস রিভার বেসিন (বাংলাদেশ)বা ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে বাংলাদেশের নিম্ন গঙ্গা অববাহিকার জলপ্রবাহ ব্যবস্থার পরিবর্তন শীর্ষ এক গবেষনায় বলা হয়েছে ফারাক্কা বাঁধ চালুর পর বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের অংশে গঙ্গার পানিপ্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর ফলে নদীর স্বাভাবিক মৌসুমি প্রবাহচক্র ব্যাহত হচ্ছে এবং বিভিন্ন পরিবেশগত সংকট তৈরি হচ্ছে।

গবেষণায় নদীর দীর্ঘমেয়াদি প্রবাহতথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত গঙ্গার পানিপ্রবাহ অতীতের তুলনায় অনেক কমেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা বাড়ছে। এতে কৃষিজমির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে এবং সুপেয় পানির সংকটও তীব্র হচ্ছে। একই সঙ্গে নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় নৌচলাচল ব্যাহত হচ্ছে। গবেষণায় আরও বলা হয়, গঙ্গার প্রবাহ পরিবর্তনের কারণে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে এবং নদীনির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকায় বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

এদিকে রাজবাড়ীর পাংশায় পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের অনুমোদন পাওয়ায় খুশির জোয়ারে ভাসছে রাজবাড়ীবাসী। সামাজিক মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে শুভকামনা জানাচ্ছেন অনেকেই। রাজবাড়ী-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম তার ফেসবুক পেজে ‘একনেকে পদ্মা ব্যারেজ অনুমোদন হলো। অভিনন্দন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে, অভিনন্দন সবাইকে” লিখে একটি স্ট্যাটাস দেন। 

রাজবাড়ী-২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর-রশিদ তার আইডিতে ‘আজ বহু প্রতীক্ষিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন লাভ করায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে মাননীয় অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টার কার্যালয়ে আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন এবং পদ্মা পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের এ ঐতিহাসিক উদ্যোগের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক ধন্যবাদ’ লিখে স্ট্যাটাস দেন।

আ.দৈ/আরএস



Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝