রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩৪৭৪ কোটি টাকা
নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৪:৪৭ পিএম   (ভিজিট : ৬৪)
X

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। আজ বুধবার (১৩ মে) একনেক বৈঠকে এই প্রকল্প অনুমোদন পায়।দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোর নাব্য ফিরিয়ে আনা এবং পরিবেশগত বিপর্যয় রোধে এটি সরকারের অন্যতম বড় একটি উদ্যোগ।ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩৪৭৪ কোটি টাকা ।

ফারাক্কা ব্যারাজের প্রভাবে গঙ্গার পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় দেশের বিশাল একটি অঞ্চল পানিশূন্যতা ও লবণাক্ততার কবলে পড়েছে। পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের মাধ্যমে:শুষ্কমৌসুমে প্রায় ২,৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা হবে।হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতী, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতি—এই পাঁচটি প্রধান নদী-সিস্টেমে পানির প্রবাহ নিশ্চিত করে সেগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে।লবণাক্ততা কমিয়ে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও ইকোসিস্টেম রক্ষা করা হবে।বৃহত্তর কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা ও রাজশাহীসহ ১৯টি জেলার প্রায় ১৯ লাখ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে।

মোট ৫০ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ের এই মেগা প্রকল্পটি দুটি পর্যায়ে বাস্তবায়িত হবে। প্রথম ধাপের জন্য একনেক সভায় ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্পের নির্মাণকাল ধরা হয়েছে জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩৩ পর্যন্ত। মূলত কাজের তদারকি ও ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যেই পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এটিকে দুই ভাগে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রাজবাড়ী জেলার পাংশা পয়েন্টে ২.১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মূল ব্যারাজটি নির্মিত হবে। এতে থাকবে:৭৮টি স্পিলওয়ে গেট এবং ১৮টি আন্ডারস্লুইস গেট।ব্যারাজের ওপর দিয়ে একটি রেলওয়ে সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা।পদ্মা ও গড়াই অফটেকে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র, যেখান থেকে মোট ১১৩ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।নৌচলাচলের জন্য নেভিগেশন লক এবং মাছ চলাচলের জন্য ফিসপাস।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। ধারণা করা হচ্ছে, এর ফলে বছরে অতিরিক্ত ২৩.৯০ লাখ টন ধান এবং ২.৩৪ লাখ টন মাছ উৎপাদন সম্ভব হবে। সামগ্রিকভাবে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি বছর আনুমানিক ৮ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুফল আসবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটির অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো ভারতের সাথে থাকা গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ, যা চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। এছাড়া ব্যারাজের উজানে ভাঙন বা ভাটিতে পলি জমার মতো পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার আশা করছে, এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মৃতপ্রায় নদীগুলোতে প্রাণ ফিরিয়ে দেবে এবং উপকূলীয় কৃষি ও জীবনযাত্রায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

আ. দৈ./কাশেম/ হেলাল


Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝