বেতন বৈষম্য নিরসনসহ দাবি বাস্তবায়ন নিয়ে উৎকণ্ঠায় সরকারি কর্মচারীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক :

সচিবালয়সহ সারাদেশের সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে এখন এক চাপা অস্থিরতা বিরাজ করছে। একদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নাভিশ্বাস, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ৯ম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ‘জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫’ গঠন করায় কর্মচারীদের মনে আশার আলো সঞ্চার হয়েছিল।
কিন্তু সেই কমিশনের সুপারিশ চূড়ান্তকরণ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা এবং অস্পষ্টতা সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যে গভীর হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিস্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, এদিকে মাঠপ্রশাসনের কর্মচারীদের কয়েকজন নেতার সাথে আলাপ- আলোচানা করে জানা গেছে, তারা শিগগিরই তাদের ন্যায্য দাবি দাওয়া নিয়ে জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় কমিশিনারের কাছে স্মারক লিপি দিবেন। এরপর তারা পরবর্তী দাবি আদায়ের জন্য পদক্ষেপ নিবে। তাদের মতে বাজেট অধিবেশনের আগে তাদের দাবি বাস্তবায়ন হলে রাষ্ট্রযন্ত্রে বিশৃঙ্খলা সৃস্টি হবে না। অন্যথা জনগনের সেবা দানে কর্চারিরা স্লথ গতি চলে আসবে।
সচিবালয়ের একাধিক কর্মচারী নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, দ্রব্যমূল্যের এই লাগামহীন বাজারে বর্তমান বেতন কাঠামো দিয়ে পরিবার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। নিম্নগ্রেডের কর্মচারীরা বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, বিদ্যমান ২০টি গ্রেড ভেঙে ১০টি গ্রেডে রূপান্তর করা, ১:৪ অনুপাতে বেতন নির্ধারণ, সচিবালয় ভাতা এবং রেশন সুবিধা নিশ্চিত করা।
দীর্ঘদিন ধরে কর্মচারীরা এই ন্যায্য দাবিগুলো নিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মসূচি পালন করে আসছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এক ধরনের নীরবতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক কর্মচারী প্রকাশ্যে আন্দোলনে যেতে ভয় পাচ্ছেন। সে কারনে বর্তমান সরাকরের কাছে তাদের ভাষ্যমতে, দাবি আদায় করতে গিয়ে সরকারের রোষানল, মামলা বা চাকরি হারানোর আতঙ্ক কাজ করছে তাদের মধ্যে। এ কারণে অনেক সংগঠন আপাতত কৌশলগতভাবে চুপচাপ থাকলেও ভেতরে ভেতরে তাদের ক্ষোভ তীব্র হচ্ছে।
সচিবালয়ের কর্মচারী প্রতিনিধিরা বলছেন, “আমরা কোনো সংঘাত চাই না। আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকারের অপেক্ষায় আছি। বেতন কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়নে সরাসরি প্রধান মন্ত্রীরহস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি। তারা আরও জানান, যদি সরকার তাদের কষ্টের কথা বিবেচনা করে আলোচনার জন্য ডাকে, তবে তারা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে এই সংকট সমাধানের প্রস্তাবগুলো তুলে ধরবেন।
বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা এক গভীর উৎকণ্ঠা নিয়ে তাকিয়ে আছেন সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। বিশেষ করে সচিবালয় ভাতা, ৯ম পে-স্কেল এবং রেশন ভাতার মতো বিষয়গুলো নিয়ে একটি যৌক্তিক সমাধানের অপেক্ষায় দিন গুনছেন তারা।
আ. দৈ./কাশেম/ হেলাল




















