গোল্ড সিন্ডিকেটের কবলে স্বামীর মৃত্যু, সন্তান নিয়েও শঙ্কায় মা
বিশেষ প্রতিবেদক

গোল্ড পাচার চক্রের হুমকি ও মানসিক নির্যাতনের কারণে স্বামীর মৃত্যুর অভিযোগ তুলে এবার সন্তানকে বাঁচাতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন মাগুরার এক নারী। যশোরের একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে অপহরণ, নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও জিম্মির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি করেছেন তিনি। আজ সোমবার (১১ মে) বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মাগুরার শালিখা উপজেলার জুনারি গ্রামের বাসিন্দা হিরা খাতুন। তিনি মরহুম আলী আহমেদের স্ত্রী হীরা খাতুন।
লিখিত বক্তব্যে হিরা খাতুন বলেন, স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে তারা সুখে-শান্তিতে বসবাস করছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর থেকে তাদের জীবনে আতঙ্ক নেমে আসে। তাঁর অভিযোগ, যশোরের একটি প্রভাবশালী চক্র নিয়মিত মোবাইল ফোনে তাঁর স্বামীকে হুমকি ও অপহরণের ভয় দেখাতে থাকে। একপর্যায়ে তাঁর স্বামী জানান, বিএনপির খুলনা বিভাগের এক শীর্ষ নেতার আশীর্বাদপুষ্ট যশোর জেলা যুবদলের সদস্যসচিব আনসারুল হক রানা এবং শার্শা থানা যুবদল নেতা গোল্ড শহীদ তাঁর বিরুদ্ধে ১৪ কোটি টাকার সমপরিমাণ সোনার বার আত্মসাতের মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন। অথচ এ বিষয়ে তাঁর স্বামীর কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না।
হিরা খাতুনের দাবি, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, ভয়ভীতি ও হুমকি সহ্য করতে না পেরে তার স্বামী ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি স্ট্রোক করে মারা যান। তিনি বলেন, অব্যাহত মানসিক নির্যাতনই তার স্বামীর মৃত্যুর জন্য দায়ী। তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্বামীর মৃত্যুর পরও তাদের পরিবারের ওপর চাপ ও হুমকি বন্ধ হয়নি। বরং তাদের একমাত্র ছেলেকে টার্গেট করা হয়।
তিনি জানান, ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর যশোর আব্দুর রাজ্জাক কলেজে অধ্যয়নরত তার ছেলেকে নিজস্ব প্রাইভেটকারসহ যশোরের আরবপুর হাইওয়ে এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, গোল্ড শহীদ ও তাঁর বড় ভাই আনসারুল হক রানার সহযোগিতায় পাবনা সদর থানায় একটি মিথ্যা মামলা দিয়ে সাদা পোশাকের পুলিশ দিয়ে তার ছেলেকে আটক করানো হয়। পরে তার ছেলেকে পাঁচ দিন আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়। ছেলে ও গাড়ি জিম্মি করে তাঁকে যশোরে গিয়ে ফয়সালা করতে চাপ দেওয়া হয়।
হিরা খাতুন বলেন, গোল্ড শহীদ আমাকে বলে, যশোরে তোর সঙ্গে কে আছে নিয়ে আয়, আমার সঙ্গে অমিত ভাই ও রানা ভাই আছে। পরে মাগুরা জেলা যুবদলের সভাপতি ওয়াকিসকুর রহমান কল্লোলের সহযোগিতায় পাঁচ দিন পর ছেলে ও গাড়ি উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তবে ছেলেকে আটকে রেখে চারটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে নিজের গাড়ি ফেরত পাওয়ার জন্য যশোর কোতোয়ালি থানায় জিডি করেন। জিডির পর গাড়িটি থানায় জমা দেওয়া হলেও এখনো তা ফেরত পাননি।
সংবাদ সম্মেলনে হিরা খাতুন অবিলম্বে তার ব্যক্তিগত গাড়ি ফেরত, স্বামী ও সন্তানের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
আ. দৈ./কাশেম/ ইমু




















