রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আসন্ন বাজেটে রেস্তোরাঁ খাতের সংকট সমাধানে ১১ দফা দাবি মালিকদের
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ১০ মে, ২০২৬, ৫:১১ পিএম   (ভিজিট : ৬৭)
X

আসন্ন বাজেট সামনে রেখে রেস্তোরাঁ খাতের সংকট সমাধানে ভ্যাট ও ট্যাক্সের হার সহনীয় করা, গ্যাস সংকট নিরসন, ট্রেড ইউনিয়নের নামে নৈরাজ্য বন্ধসহ ১১ দফা দাবি জানিয়েছে এ খাতের ব্যবসায়ীরা।

রোববার (১০ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনের এসব দাবি করে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।
এ সময় সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, রেস্তোরাঁ খাত করোনার অভিঘাত এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে, যা বাজার ব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করেছে। 

বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। এর সরাসরি ও মারাত্মক প্রভাব পড়ছে দেশের রেস্তোঁরা খাতেও।

তিনি বলেন, এ পরিস্থিতির কারণে রেস্তোরাঁয় ক্রমবর্ধমান খরচ বৃদ্ধি, কমে যাওয়া ক্রেতা উপস্থিতি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে রেস্তোঁরা সেক্টর আজ এক গভীর সংকটময় সময় অতিক্রম করছে। এই প্রেক্ষাপটে, জনগণের রায়ে নির্বাচিত নতুন সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা-রেস্তোঁরা সেক্টরকে টিকিয়ে রাখতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

সরকারের কাছে যে ১১ দফা দাবি জানানো হয়, তা হলো রেস্তোরাঁ ব্যবসা পরিচালনায় ওয়ান স্টপ সার্ভিসের দ্রুত বাস্তবায়ন, আগামী অর্থবছরের বাজেটে ভ্যাট ও ট্যাক্সের হার সহনীয় মাত্রায় রেখে এর পরিধি বাড়ানো, এলপিজি সংকটের দ্রুত সমাধান এবং লাইনের গ্যাসের নতুন সংযোগ পুনরায় চালু, বিভিন্ন দপ্তরের অভিযানের নামে রেস্তোরাঁ মালিকদের হয়রানি বন্ধসহ অভিযান পরিচালনায় ব্যবসায়ী প্রতিনিধির অন্তর্ভুক্তি করা, রেস্তোরাঁ সেক্টরে রাজউক, কলকারখানা, ফায়ার ও পরিবেশসহ সকল অধিদপ্তরের হয়রানি বন্ধ করা।

এর পাশাপাশি রেস্তোরাঁ সেক্টরে কর্পোরেট আগ্রাসন বন্ধ করা, রেস্তোরাঁ সেক্টরকে শিল্প ঘোষণার বাস্তবায়ন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ও ইস্যু পুনরায় চালু করা, রেস্তোরাঁ সেক্টরে ট্রেড ইউনিয়নের নামে মালিকদের জিম্মি, হয়রানি, চাঁদাবাজি সহ সকল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করা, গরুর মাংস আমদানির অনুমতি দেয়া এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় রেস্তোরাঁ সেক্টরে অদক্ষ শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

এ সময় ইমরান হাসান বলেন, দেশে জটিল লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া, একাধিক দপ্তরের অনুমোদন, এবং সমন্বয়ের অভাবে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। একটি রেস্তোরাঁ চালু করতে প্রায় ১০-১২টি সনদ প্রয়োজন হয়, যা পেতে ২ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত সময় লাগে, ফলে খরচ ও ভোগান্তি বাড়ে এবং খাতটির উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। 

এসব সনদ প্রাপ্তি এবং নবায়নের সময়, সরকারি দপ্তরগুলোতে ভয়াবহ আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও হয়রানির শিকার হতে হয় ব্যবসায়ীদের। এ পরিস্থিতিতে, রেস্তোরাঁ সেক্টরের জন্য একটি সমন্বিত ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালু করা অত্যন্ত জরুরি। এর মাধ্যমে লাইসেন্স প্রাপ্তি সহজ হবে, সময় ও খরচ কমবে এবং কার্যকর মনিটরিং নিশ্চিত করে নিরাপদ খাদ্য বাস্তবায়ন আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।

ভ্যাট ও ট্যাক্সের হার সহনীয় মাত্রায় রেখে এর পরিধি বাড়ানোর দাবি জানিয়ে মহাসচিব বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে রেস্তোরাঁ খাতে ভ্যাট ১৫% থেকে ৫%-এ নামানো হলেও ১০% সম্পূরক শুল্ক, উৎসে করসহ অন্যান্য করের চাপে ব্যবসায়ীরা এখনও হিমশিম খাচ্ছেন। তাই আগামী বাজেটে কর সহনীয় রাখা, উৎসে কর প্রত্যাহার এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের ক্যান্টিন ও ক্যাটারিং সেবায় ভ্যাট ৫% করার দাবি জানানো হচ্ছে। বর্তমান উচ্চ করহার করদাতাদের নিরুৎসাহিত করে এবং কর ফাঁকি বাড়ায়। করের হার কমিয়ে আওতা বাড়ানো হলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর প্রদান বাড়বে, নতুন করদাতা যুক্ত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে।

তিনি আরো বলেন, এ দেশে ৮০ শতাংশ রেস্তোরাঁ অনিবন্ধিত, অনেক ব্যবসায়ী স্বাস্থ্যবিধি ও ভ্যাট-ট্যাক্স না মেনে কম দামে খাবার বিক্রি করছে, যা জনস্বাস্থ্য ও রেস্তোরাঁ খাতের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই অনিবন্ধিত ও নিয়ম না মানা ব্যবসার বিরুদ্ধে সরকারের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে অনতিবিলম্বে সবাইকে ভ্যাট-ট্যাক্সের আওতায় আনতে হবে, অন্যতায় আমরা ভ্যাট-ট্যাক্স দেয়া বন্ধ করে দিতে বাধ্য হব।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দপ্তরের অভিযানের নামে রেস্তোরাঁ মালিকদের হয়রানি বন্ধসহ অভিযান পরিচালনায় ব্যবসায়ি প্রতিনিধির অন্তর্ভুক্তি করা দরকার। কারণ দেশের বিভিন্ন স্থানে একেক সময় সরকারের একেক দপ্তর, নিজেদের খেয়াল খুশি মতো রেস্তোরাঁগুলোতে অভিযান পরিচালনা করে। বিভিন্ন দপ্তরের অভিযানের সময় রেস্তোরাঁ মালিকদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি বন্ধ করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

রেস্তোরাঁ সেক্টরে কর্পোরেট আগ্রাসন বন্ধের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এই খাতে অতিরিক্ত কর্পোরেট আগ্রাসনের কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা টিকে থাকার লড়াইয়ে পড়েছেন। বড় বড় কর্পোরেট গ্রুপের একচেটিয়া বিস্তার বাজারের স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা নষ্ট করছে এবং স্বাধীন উদ্যোক্তাদের জন্য অসম পরিবেশ তৈরি করছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই-রেস্তোরাঁ শিল্পে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা থাকতে হবে, কিন্তু কোনোভাবেই একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেওয়া হবে না। একচেটিয়া কর্পোরেট আধিপত্য রোধে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, রেস্তোরাঁ সেক্টকে শিল্প ঘোষণার বাস্তবায়ন চাই আমরা। গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২২ ইং তারিখে সরকার রেস্তোরাঁ খাতকে শিল্প হিসেবে ঘোষণার যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তা ছিল সময়োপযোগী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, ঘোষণার দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এর বাস্তবায়ন এখনো দৃশ্যমান নয়। আমরা সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি-রেস্তোরাঁ সেক্টরকে ঘোষিত শিল্প খাত হিসেবে দ্রুত কার্যকর স্বীকৃতি দিতে হবে, শিল্প খাতের জন্য প্রযোজ্য ব্যাংক ঋণ, কর সুবিধা, প্রণোদনা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের টিকে থাকার জন্য বাস্তবমুখী নীতিগত সহায়তা দিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, সমিতির সহ-সভাপতি শাহ সুলতান খোকন,  এক নম্বর যুগ্ম মহাসচিব মো. ফিরোজ আলম সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌফিকুর ইসলাম এবং যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান বিপু।

আ.দৈ/আরএস



Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝