আজহারীর চেহারা ও কণ্ঠ নকল করে বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন, দুইজন রিমান্ডে
নিজস্ব প্রতিবেদক :

জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারীর ছবি ও কণ্ঠ নকল করে ডিপফেক ভিডিও বানিয়ে প্রতারণার অভিযোগে মো. সারাফাত হোসেন এবং মো. শাফায়েত হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এই জালিয়াতিতে জড়িত ১০ সদস্যের একটি চক্রের মূলহোতা ওই ২জন।
আজ মঙ্গলবার (৫ মে) মামলার শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসেন জুনায়েদ এই আদেশ দেন। গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন।
পুলিশ জানায়, গত ২০ এপ্রিল রাজধানী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির ১০ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে মো. সারাফাত হোসেন ও মো. শাফায়েত হোসেনকে এই চক্রের মূলহোতা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, আসামিরা আধুনিক ‘ডিপফেক’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে আজহারীর মুখাবয়ব ও কণ্ঠস্বর নকল করে আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করতেন। পরে এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হতো।
এছাড়া চক্রটি একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি সংশ্লিষ্ট পণ্যের বিজ্ঞাপন দিত এবং কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করে দেশজুড়ে সেগুলো সরবরাহ করত। অবৈধ এই ব্যবসার লেনদেনে ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করা হতো বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
জানা যায়, ভিডিও বানিয়ে প্রতারণা এবং মাওলানা আজহারীর নাম ভাঙিয়ে রমরমা ব্যবসায় জড়িত ১০ যুবক গ্রেপ্তারের পর বর্তমানে কারাগারে। আজহারী-আহমাদুল্লাহর নামে বিজ্ঞাপন দিয়ে ওষুধ বিক্রি, বিচার দাবি উঠে সংসদে।
অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে ১১টি ল্যাপটপ, ১২টি স্মার্টফোন, ৩৪টি ফিচার ফোন (সিমসহ), ২১টি অতিরিক্ত সিম কার্ড, ২টি পেনড্রাইভসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই চক্রের নেটওয়ার্ক এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
আ. দৈ./কাশেম




















