
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বাংলাদেশ ও জাপানের যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোন (বিএসইজেড) এখন বাস্তব অগ্রগতির পথে। একসময় পরিকল্পনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা এই অর্থনৈতিক অঞ্চল এখন ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ শিল্পাঞ্চলে রূপ নিচ্ছে।
এখানে ইতিমধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠান উৎপাদন শুরু করেছে, যার মধ্যে রয়েছে আর্টনেচার বাংলাদেশ লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি উচ্চমানের কৃত্রিম চুল (উইগ) উৎপাদন করে জাপান ও সিঙ্গাপুরে রপ্তানি করছে। কারখানায় প্রায় ২০০ কর্মী কাজ করছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী।
বিএসইজেডে এখন পর্যন্ত অন্তত ১২টি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান জমি বরাদ্দ পেয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত বিনিয়োগ প্রস্তাব দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। পাশাপাশি আরও প্রায় ৩০টি প্রতিষ্ঠান এখানে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখাচ্ছে।
অবকাঠামো উন্নয়নেও অগ্রগতি হয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ইতিমধ্যে সড়ক, ড্রেনেজ, বিদ্যুৎ সংযোগ ও পানি ব্যবস্থাপনার কাজ অনেকাংশে সম্পন্ন হয়েছে। তবে বড় শিল্পগুলোর জন্য গ্যাস সংযোগ এখনও চালুর অপেক্ষায় রয়েছে, যা ২০২৬ সালের মধ্যে সরবরাহ শুরু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে চালু থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেড, লায়ন কল্লোল লিমিটেড এবং আর্টনেচার। এসব প্রতিষ্ঠান হোম অ্যাপ্লায়েন্স, এফএমসিজি ও কাস্টমাইজড পণ্য উৎপাদনে যুক্ত।
চীনা, জাপানি, জার্মান ও ইউরোপীয় বিভিন্ন কোম্পানির আগ্রহও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিনিয়োগকারীদের মতে, উন্নত অবকাঠামো, রপ্তানি সুবিধা এবং প্রশাসনিক সহায়তা এই অঞ্চলের প্রধান আকর্ষণ।
বিডা ও বেজা কর্মকর্তাদের ধারণা, আগামী কয়েক বছরে পুরো অঞ্চলটি পূর্ণমাত্রায় চালু হলে ১ থেকে ২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এবং প্রায় এক লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।
বর্তমানে নির্মাণাধীন ও প্রস্তুত প্লট মিলিয়ে বিএসইজেড এখন দ্রুতই একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে, যদিও পূর্ণ সাফল্যের জন্য আরও বিনিয়োগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন।
আ.দৈ./ এম.এস




















