তনু হত্যা মামলার অগ্রগতি জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী: আসাদুজ্জামান
নিজস্ব প্রতিবেদক :

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো.আসাদুজ্জামান বলেছেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে খুন হয়েছিলেন সোহাগী জাহান তনু। অবশেষে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তাগিদের কারণে ১০ বছর পর সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার জট খুলতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, এ বছর ঈদের দিন সকালে তার মোবাইল ফোনে একটি দৈনিক পত্রিকার প্রতিবেদন পাঠিয়ে তনু হত্যা মামলার অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
আজ শনিবার (২ মে) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পদ্ধতিগত প্রতিবন্ধকতা এবং উক্ত প্রতিবন্ধকতাসমূহ নিরসনের কার্যকর উপায় চিহ্নিতকরণ’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে গবেষণাটি চালানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তনুর লাশ পাওয়া যায়। পরদিন তনুর বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) ইয়ার হোসেনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
আজ শনিবারের অনুষ্ঠানে একজন আইনমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান, তনু হত্যার বিচার যেন হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, গত ঈদের দিন সকালে প্রধানমন্ত্রী তাকে ফোনে একটি বার্তা পাঠান, যেখানে পত্রিকার একটি প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মামলার হালনাগাদ তথ্য জানাতে বলা হয়।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ঈদের পর প্রথম অফিস খোলার দিনই এ বিষয়ে বিস্তারিত আপডেট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসে আলোচনা করি। দীর্ঘ ১০ বছর পর এ মামলার জট খুলতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে একজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’
অনুষ্ঠান শেষে তনু হত্যা মামলার অগ্রগতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১০ বছরে যে কাজগুলো করা সম্ভব হয়নি, সেগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা এই দুই মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছি। তবে এটি এখন পর্যন্ত আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো নির্দিষ্ট আওতাভুক্ত বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এটি বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত একটি বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ। স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা এবং জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক শাশ্বতী বিপ্লব।
আ. দৈ./কাশেম




















