গুলশানে ভারতীয় নারীর রহস্যজনক মৃত্যু, বাড্ডায় শিশুর লাশ উদ্ধার
নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজধানীর গুলশানে বসবাসকারী শামীম সালিম কাসিম (৬৭) নামে এক ভারতীয় নারীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে তাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হয়েছে বলে হাসাপাতাল সূত্রে জানা গেছে। সকাল ৯টা ৪২ মিনিটে তাকে গুলশানে অবস্থিত ইউনাইটেড হাসপাতালে (কন্টিনেন্টাল হাসপাতাল) নেয়া হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, হাসপাতালের মেডিকেল সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ হিসেবে আনঅ্যাটেনডেড ডেথ (ফাউন্ড ডেড) উল্লেখ করা হয়েছে, অর্থাৎ তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এছাড়া মরদেহের মুখে আঘাতের চিহ্নের কথা উল্লেখ রয়েছে। বিশেষ করে মুখে কালচে-বেগুনি দাগ ও ফোলাভাব লক্ষ্য করা গেছে। চোখের চারপাশেও রক্তজমাটের মতো চিহ্ন রয়েছে।
এ বিষয়ে ডিএমপির গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোকলেসুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আমরা খবর পাই যে ভারতীয় ওই নারী হাসপাতালে মারা গেছেন। তবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
এদিকে রাজধানীর বাড্ডা থানাধীন বড় বেড়াইদ পশ্চিম ঋষিপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে হাবিবুল্লাহ হাবিব নামে তিন বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্বজনদের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, পেশায় রিকশাচালক শিশুটির মাদকাসক্ত বাবা মো. শাহীন নিজের সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন। গত ২৭ এপ্রিল ভোরে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জামাল হোসেন বলেন, আমরা খবর পেয়ে ওই এলাকার জুলহাস মিয়ার বাড়ি থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করি। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢামেক হাসপাতাল মর্গে পাঠাই। তিনি বলেন, আমরা স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, মাদকাসক্ত বাবা মো. শাহীন শ্বাসরোধ করে নিজের শিশুসন্তানকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
ভবন মালিক জুলহাস জানান, শিশুটির বাবা শাহীন পেশায় রিকশাচালক। তিনি স্ত্রী শিল্পী খাতুন ও দুই ছেলেকে নিয়ে বাসাটিতে ভাড়া থাকতেন। ঘটনার সময় বড় ছেলে বাসায় ছিল না আর শিশুটির মা ওষুধ কিনতে বাইরে গিয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পর বাসায় ফিরে শিল্পী খাতুন রুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। ডাকাডাকি করেও দরজা না খোলায় স্থানীয়দের ডেকে চাপ প্রয়োগ করলে শাহীন দরজা খুলে দেন। পরে সবাই ঘরে ঢুকে বিছানার ওপর শিশুটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। এসময় শাহীনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পৃথক ঘটনায় পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
আ. দৈ./কাশেম/ ইমু




















