পাম্প থেকে তেল নিয়েই মহল্লায় দ্বীগুন দামে বিক্রি
ইসমাঈল হুসাইন ইমু

মেতাকাব্বাল (ছদ্মনাম)। দীর্ঘ তিন ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন জ¦ালানি তেলের অপেক্ষায়। অবশেষে মিললো ৫শ’ টাকার তেল। তড়িঘড়ি করে ছুটলেন বাসার দিকে। বাইকের টাঙ্কি থেকে তেল নামিয়ে আবার ছুট পাম্পের দিকে। ইরান যুদ্ধের পর জ¦ালানি তেল নিয়ে নানা সংকটের কথা ভাসছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
আর এ কারণে মোতাকাব্বালের মত হাজারো তরুণ একই পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন। তারা কি শুধু তেল মুজদ করছেন? মোটেই না। তাদের টার্গেট মহল্লায় যারা তেল নিয়ে বিপাকে আছেন তাদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করা। এ অবস্থা চলছে গত সপ্তাহখানেক ধরে। সরকারের পক্ষ থেকে তেলের যথেষ্ঠ মজুদের কথা বলা হলে অসাধু এ চক্রটি তেল নিয়ে তেলেসমাতি করে চলেছে। শুক্রবার রাজধানীর রমনা পেট্রল পাম্পে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়ানো একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে একান্ত আলাপকালে এ তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ী, মিরহাজীরবাগ, লালবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে জ¦ালানি তেল। এসব স্থানে অকটেনের মুল্য লিটার প্রতি ২শ থেকে ৩শ টাকা। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়ানোর কষ্ট থেকে বাঁচতে বাধ্য হয়ে কিনছেও মানুষ। শুধু রাজধানীতেই নয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ অবস্থা চলছে। মাগুরা থেকে ঢাকায় বেড়াতে আসা এক চিকিৎসক জানান, তার এলাকার পাম্পগুলোতে জ¦ালানি তেলের তীব্র সংকট। দুএকটি পাম্পে তেল মিলরেও চাহিদার তুলনায় পরিমানে কম দিচ্ছে। তবে পাড়া মহল্লার চায়ের দোকানেও মিলছে জ¦ালানি তেল। ওইসব দোকানে দ্বীগুন দামে কিনছে সবাই।
কেন এমন করছেন বাইক চালকরা ?
এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে মিললো চাঞ্চল্যকর তথ্য। একজন পাঠাও চালক সারাদিন বিভিন্ন রুটে বাইক চালিয়ে ৭শ থেকে ১২শ টাকা আয় করে থাকেন। বর্তমানে পেট্রল পাম্পগুলোতে জ¦ালানি রেশনিং পদ্ধতিতে দেয়ায় এবং ব্যাপক কর্মঘন্টা নষ্ট হওয়ায় ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে পাঠাও চালকরা। তারা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিয়ে মহল্লায় গিয়ে দ্বীগুন দাম পাচ্ছে। আর এ খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে অন্য বাইকারদের কাছে। তারাও রাস্তায় যাত্রী না খুঁেজ জড়ো হচ্ছেন তেলের পাম্পে। তবে তেলের পাম্পে শুধু পাঠাও চালকদেরই ভীড় তা নয়, সাধারণ মানুষও বাধ্য হয়ে লাইনে দাড়াচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাঠাও চালকদের এ আচরণ চলতে থাকলে দেশে শিগগিরই জ¦ালানি তেল সংকট দেখা দিবে।
অন্যদিকে ববর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খরা বাহিনী অবৈধ তেল মজুতদারদের ধরতে মাঠে নেমেছে। ইতিমধ্যে ধরাও পড়ছে আবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে কারাদন্ড দেয়া হচ্ছে। এরপরও থামছেনা অবৈধ মজুতের কারবার।
অপরদিকে বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য খুলে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করেছে ইরান। ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর যৌথ সামরিক কমান্ড শনিবার এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে এ তথ্য। শনিবার স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে দেওয়া সেই বিবৃতিতে যৌথ সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে এসেছে। পুরো প্রণালির ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রণ সামরিক বাহিনীর হাতে থাকবে, আগের মতোই।
ইরানের এমন ঘোষণার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর অবারো নড়েচড়ে বসেছে অবৈধ তেল মজুতদাররা। আগের চেয়ে ভিন্ন পদ্ধতিতে (লাইনে একাধিক ব্যক্তিকে দাঁড় করিয়ে) জ¦ালানি তেল সংগ্রহে নেমেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পাঠাও চালক বিষয়টি স্বীকার করে জানিয়েছে, এই গরমে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করা খুবই কষ্টের। তাই যেভাবেই হোক পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে বাইরে বিক্রি করছেন তারা। এতে কষ্ট কিছুটা হলেও লাভতো হচ্ছে-জানান তিনি।
পাড়া মহল্লায় তেল বিক্রির বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কেউ কোন অভিযোগ করেনি। যদি এমন অভিযোগ আসে অব্যশ্যই জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আ.দৈ/আরএস





















