শেয়ারবাজারে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার মূলধন কমেছ
নিজস্ব প্রতিবেদক :

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে ইসরাইয়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতিতেও অস্থিরতা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহ পার করেছে দেশের শেয়ারবাজার। এতে সপ্তাহজুড়ে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট ফান্ডের দাম বেড়েছে। তবে বড় মূলধনের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দাম কমায় মূল্য সূচকের পতন হয়েছে, সেই সঙ্গে কমেছে বাজার মূলধন। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক ও লেনদেন কমেছে। ডিএসই ও সিএসইর সাপ্তাহিক বাজার চিত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
ডিএসইর বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন কার্যদিবসে মূল্য সূচক বেড়েছে। বিপরীতে দুই কার্যদিবসে কমেছে। এতে সপ্তাহের ব্যবধানে বেশি প্রতিষ্ঠানের দাম বেড়েছে। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২১৩টির শেয়ার ও ইউনিটের স্থান হয়েছে দাম বাড়ার তালিকায়।
বিপরীতে দাম কমেছে ১৪২টির। আর ৩৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৫ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা। যা আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ৩ হাজার ৩১ কোটি টাকা। যা আগের সপ্তাহে বাজার মূলধন কমে ৭৩৭ কোটি টাকা।
বাজার মূলধন কমার পাশাপাশি গত সপ্তাহে মূল্য সূচকও কমেছে। ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহজুড়ে কমেছে দশমিক পয়েন্ট বা দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ৩৭ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট বা দশমিক ৭৩ শতাংশ। তার আগের সপ্তাহে কমে ১৪৮ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৭৭ শতাংশ। অপর দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে কমেছে ১১ দশমিক ৯৮ পয়েন্ট বা দশমিক ৬০ শতাংশ।
আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ২১ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ১০ শতাংশ। তার আগের সপ্তাহে কমে ৮৫ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট বা ৪ দশমিক ১৬ শতাংশ। ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ৩ দশমিক ২৬ পয়েন্ট বা দশমিক ৩১ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ৩ দশমিক ৬০ পয়েন্ট বা দশমিক ৩৪ শতাংশ। তার আগের সপ্তাহে কমে ১৯ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনের গতি বেড়েছে। সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৮১৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা। যা আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৬৬৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়েছে ১৪৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বা ২২ দশমিক ২০ শতাংশ।
সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগের শেয়ার। কোম্পানিটির শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৩৬ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিটি ব্যাংকের শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ২৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। প্রতিদিন গড়ে ২৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা লেনাদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে একমি পেস্টিসাইড। এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে, লাভেলো আইসক্রিম, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, কেডিএস এক্সসরিজ, গোল্ডেন সন, মীর আক্তার হোসেন লিমিটেড এবং পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স।
এদিকে, অপর শেয়ারবাজার সিএসইতে গত সপ্তাহে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ০.০৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৪৭৬১.৭৩ পয়েন্টে। সিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে সিএসই-৩০ সূচক ০.০৬ শতাংশ বেড়ে ১২ হাজার ৯৭৬.২১ পয়েন্টে, সিএসসিএক্স সূচক ০.০১ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ৪০.৪৮ পয়েন্টে, সিএসআই সূচক ০.০৫ শতাংশ কমে ৮৯৭.৭৪ পয়েন্টে এবং এসইএসএমইএক্স (এসএমই ইনডেক্স) ০.৪৪ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ১৯০.৭০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
গত লেনদেন হয়েছে ১৪৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা। যা এরআগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ২৪৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন কমেছে ৯৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এছাড়া সিএসইতে মোট ২৯৫টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৭টির, দর কমেছে ১২১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৭টির শেয়ার ও ইউনিট দর।
আ. দৈ./কাশেম




















