রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মগবাজারে নবীন ফ্যাশনে বিশৃঙ্খলা, আদালতে ওসির দুঃখ প্রকাশ
নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ: রোববার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৫:১৬ পিএম   (ভিজিট : ৮৮)
X

ডিএমপির হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোলাম মর্তুজা ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। একই সাথে তিনি রাজধানীর মগবাজারের বিশাল সেন্টারে ‘নবীন ফ্যাশন’-এর আকর্ষণীয় অফারকে কেন্দ্র করে কাপড় ব্যবসায়ীদের তৈরি সিন্ডিকেটের সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার ঘটনায় আদালতে ব্যাখ্যা দিয়েছেন ।
ওসি মোলাম মর্তুজা আদালতকে বলেন, হঠাৎ অতিরিক্ত ভিড়, বিশেষ করে বাইকারদের চাপ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পুলিশের কোনো ত্রুটি থাকলে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

আজ রোববার (২৯ মার্চ) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে হাজির হয়ে এ ব্যাখ্যা দেন ওসি মোলাম মর্তুজা।

এর আগে পাঞ্জাবির দোকানটি জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগের ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে শোকজ এবং দোকানটি দ্রুত চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়।

 উল্লেখ্য,গত ২৫ মার্চ সিএমএম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান স্বপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন।এরই অংশ হিসেবে মোলাম মর্তুজা আদালতকে বলেন, মগবাজারের বিশাল সেন্টারে প্রায় তিন বছর ধরে 'নবীন ফ্যাশন' নামে একটি পোশাকের দোকান ব্যবসা পরিচালনা করছে, যেখানে নিয়মিত কম দামে পণ্য বিক্রি ও বিভিন্ন আকর্ষণীয় অফার দেওয়া হয়।একই মার্কেটে প্রিন্স ফ্যাশন, কিংস ফ্যাশন ও আল মোস্তফার মতো পুরোনো দোকানও দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা চালিয়ে আসছে।

গত ২০ মার্চ নবীন ফ্যাশন বিশেষ অফার ঘোষণা করে দুটি পাঞ্জাবি কিনলে চারটি ফ্রি, বাইকারদের জন্য ইঞ্জিন অয়েল ফ্রি, এমনকি রিকশা ভাড়াও বিনামূল্যে। ফেসবুক ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচারিত এই অফারের কারণে জুমার নামাজের আগ থেকেই দোকানের সামনে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। প্রতি মুহূর্তে প্রায় ১০০ থেকে ১২০টি মোটরসাইকেলের চলাচল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

অতিরিক্ত ভিড়ের ফলে দোকানের সামনে, পার্কিং এলাকা এবং আশপাশের দোকানগুলোর সামনে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে বিকেল ৫টার দিকে নবীন ফ্যাশন ফেসবুকে অফার বন্ধের ঘোষণা দেয় এবং দোকানের শাটার নামিয়ে দেয়। তবে ক্রেতারা পিছনের গেট দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও অগোছালো হয়ে ওঠে।

এ সময় মার্কেটের সিকিউরিটি গার্ড বিষয়টি কমিটির সভাপতি তৈয়ব আলী ও সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন মাইকেলসহ সংশ্লিষ্টদের জানান। তারা দোকানে গিয়ে কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি শান্ত করতে সংশ্লিষ্টদের বাইরে নিয়ে আসেন।
ঈদ উপলক্ষে মার্কেটে আগেই পুলিশ মোতায়েন ছিল। দায়িত্বপ্রাপ্ত এএসআই আরিফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিড় নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। তার দ্রুত পদক্ষেপে কোনো মারামারি, ভাঙচুর বা লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি বলে জানান ওসি।

ওসি আরও বলেন, তিনি ওয়্যারলেসের মাধ্যমে নিয়মিত পরিস্থিতির খোঁজ নেন এবং পরে ফোনে বিস্তারিত জেনে অতিরিক্ত ফোর্স না পাঠিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখেন। পরে একজন অফিসারকে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে নবীন ফ্যাশনের মালিক এনামুল হাসান নবীনের সঙ্গে ফোনে কথা বলে দোকান খোলার অনুরোধ করা হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকায় তার একাধিক দোকান রয়েছে এবং ওইদিন তিনি দোকান খোলার প্রয়োজন মনে করেননি।

রাতে ওসি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে মার্কেট কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে দোকান মালিক অভিযোগ করেন, প্রিন্স ফ্যাশনের মালিক তার কর্মচারীদের হুমকি দিয়েছেন। এ বিষয়ে ওসি তাকে প্রথমে মার্কেট কমিটির কাছে অভিযোগ জানাতে বলেন এবং প্রয়োজন হলে পুলিশের সহায়তার আশ্বাস দেন।

সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ওসি বলেন, তিনি নাকি ‘মার্কেট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পারবেন না, তারা প্রধানমন্ত্রীর লোক’ এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। পরদিন ২৬ মার্চ আদালতের নির্দেশে পুলিশি উপস্থিতিতে নবীন ফ্যাশনের দোকান খুলে দেওয়া হয় এবং নিরাপদ পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করা হয়।

ওসি জানান, ঘটনার সময় মার্কেট কমিটির সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সিকিউরিটি ইনচার্জ এবং নবীন ফ্যাশনের ম্যানেজার ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় পুলিশকে লক্ষ্য করে চাপ ও হামলার কারণে পরিস্থিতি সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। এমন অবস্থায় হঠাৎ বড় ভিড় তৈরি হলে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। তবে পুলিশ ধৈর্য ও পেশাদারত্ব বজায় রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে।

আ. দৈ./কাশেম


Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
অর্থ-বাণিজ্য- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝