রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ১১টি মামলা রয়েছে
সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদের বিরুদ্ধে এক মামলায় ৫দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ৪:৫৬ পিএম  আপডেট: ২৪.০৩.২০২৬ ৭:০৪ পিএম  (ভিজিট : ৯৯)
X


বাংলাদেশের ইতিহাসে বহুল আলোচিত অস্বাভাবিক ক্ষমতাবান ‘এক-এগারোর’ নীতিনির্ধারক সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) ও সাবেক এমপি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে রাজধানীর পল্টন থানায় করা মানবপাচার মামলায় পাঁচদিনের রিমান্ডে মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামিকে হাজির করে  ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানানো হয়। পরে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ তদন্ত কর্ম কর্তকর্তার আবেদন শুনানি শেসে ৫দিনর রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

মামলার তদন্তের স্বার্থে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল।  ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)  জানিয়েছে আসামি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ১১টি বেশি মামলা রয়েছে।

ডিবিপ্রধান বলেন, গ্রেফতার মাসুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে ডিএমপির বনানী, পল্টন, কোতোয়ালি, মিরপুর ও হাতিরঝিল থানায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, মানবপাচার প্রতিরোধ আইন ও মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত গুরুতর অপরাধের অভিযোগে মামলা রয়েছে।

এরআগে  আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর নামে দুদকেরও মামলা রয়েছে, সেগুলোর তদন্ত চলছে।

এর আগে গত সোমবার দিবাগত রাতে বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার ২ নম্বর লেনের ১৫৩ নম্বর বাড়ি থেকে সাবেক এই লেফটেন্যান্ট জেনারেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান ডিআইজি শফিকুল ইসলাম। ডিআইজি শফিকুল ইসলাম জানান, ‘আমরা তাকে গ্রেপ্তার করেছি। তার বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে।’

২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বে থাকা মাসুদ উদ্দিন এক-এগারোর রক্তপাতহীন সেনা অভ্যুত্থানের পর কথিত দুর্নীতিবিরোধী গুরুতর অপরাধ দমনসংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক ছিলেন। ওই কমিটির প্রধান ছিলেন তখনকার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এম এ মতিন।

তবে জরুরি অবস্থার ওই সময়ে পর্দার আড়ালে থেকে জেনারেল মাসুদই যৌথ বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করতেন। সেনা কর্মকর্তাদের নেতৃত্বাধীন ওই বাহিনী শীর্ষ রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করত এবং পরে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা দেওয়া হতো। অনেক ক্ষেত্রে বিত্তশালী ও ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগ ছিল।

২০০৬ সালের শেষ ভাগে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতা ছাড়ার পর রাজনৈতিক মতানৈক্যের মধ্যে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ নিজেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন তুঙ্গে ওঠে। জাতীয় নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় আন্দোলনরত দলগুলো।

ওই অবস্থায় সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা-হানাহানির মধ্যে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে জিম্মি করে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। একই সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদ ছেড়ে দিতে বাধ্য করে প্রভাবশালী কুশীলবেরা। বাতিল করা হয় ২২ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন।

আলোচিত সেই ঘটনাপ্রবাহের শুরুর দিনটি পরিচিতি পায় ‘ওয়ান ইলেভেন’ নামে। বিএনপি নেতাদের বিশ্বাস, ‘এক-এগারো’ না ঘটলে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তারাই আবার ক্ষমতায় ফিরতেন।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারি এবং ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সামরিক কর্মকর্তাদের অন্যতম নায়ক ছিলেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।

তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (পরে চার তারকা জেনারেল হন) মইন উ আহমেদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে জেনারেল মাসুদই কার্যত সেই প্রভাবশালী কমিটি (গুরুতর অপরাধ দমনসংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটি) পরিচালনা করতেন, যার নির্দেশে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সিনিয়র রাজনীতিকদের পাশাপাশি দেশের শীর্ষ অনেক ব্যবসায়ীকেও আটক করা হয়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও সে সময় গ্রেপ্তার করে দুর্নীতির মামলা দেওয়া হয়েছিল। সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে কথিত ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’র মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে পাল্টে ফেলে রাজনীতিকে নতুন চেহারা দেওয়ার অপচেষ্টা দেখা যায়।

সেই সময় তারেক রহমানকে গ্রেপ্তারের পর সামরিক গোয়েন্দা হেফাজতে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। এমনকি হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। নির্যাতনের একপর্যায়ে ওপরে তুলে শূন্য থেকে ফ্লোরে ফেলে তারেক রহমানের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার কথা তখন জানা যায়। জেনারেল অব. মাসুদের তত্ত্বাবধানে কতিপয় অতিউৎসাহী কর্মকর্তা এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

আলোচিত এই সেনা কর্মকর্তা পারিবারিক সূত্রে খালেদা জিয়া পরিবারের আত্মীয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ভাই মরহুম সাঈদ ইস্কান্দারের ভায়রা ভাই। সেই সুবাদে খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে পদোন্নতি পান এবং গুরুত্বপূর্ণ নবম ডিভিশনের দায়িত্ব পান।

মঈন-ফখরুদ্দিন সরকারের দেড় বছরের মাথায় সেনাপ্রধানের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন সৃষ্টি হলে ২০০৮ সালের জুনে লেফটেনেন্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাই কমিশনার করে পাঠানো হয়। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ সরকারও তাকে ২০১১ সালের জুন পর্যন্ত সেই দায়িত্বে রাখে। ১৯৭৫ সালে রক্ষীবাহিনী গঠিত হলে সেই বাহিনীতে ছিলেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। পরে তাদের সেনাবাহিনীতে আত্তীকরণ করা হয়।

সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর ২০১৮ সালে তিনি এইচ এম এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। দলটির মনোনয়নে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পাশাপাশি জনশক্তি রপ্তানি, অভিজাত রেষ্টুরেন্টসহ বিভিন্ন ব্যবসা চালিয়ে যান। মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার নিয়ে কারসাজি ও বহু মানুষকে প্রতারিত করারও অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

২০২৪ সালের জুলাই আগস্টের হাসিনা-পতন আন্দোলনের সময় ফনীর মহিপালে অস্ত্রধারীদের নির্বিচার গুলিতে অন্তত ১১ জন শহীদ হন। ওই হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় ফেনীতে যে কয়টি মামলা হয়েছে তার অন্যতম অভিযুক্ত আসামি জেনারেল মাসুদ। কিন্তু প্রায় দুই বছরেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। অবশেষে আজ আটক হলেন।

আ. দৈ./কাশেম


Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝