দুই বছরে দৃশ্যমান অগ্রগতি
রিহ্যাবের সক্রিয়তা ও সদস্যসেবায় নতুন গতি
নিজস্ব প্রতিবেদক
একটি গোষ্ঠী দীর্ঘদিন রিহ্যাবকে কুক্ষিগত করে রেখেছিল। দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২০২৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব পায় রিহ্যাব। এই নির্বাচনের মাধ্যমে সংগঠনটিতে গণতান্ত্রিক চর্চা পুনরুজ্জীবিত হয় এবং আবাসন খাতের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে নতুন আশা তৈরি হয়। নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রিহ্যাবের কার্যক্রমে গতি আসে। নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে গত দুই বছরে সংগঠনটি সদস্যদের সুবিধা নিশ্চিত করা এবং দেশের আবাসন খাতকে আরও গতিশীল করার জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
১. ব্যাংক ঋণের সুবিধা বৃদ্ধি
রিহ্যাবের উদ্যোগে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ২ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত করা হয়। এতে বড় এবং মধ্যম প্রকল্পের জন্য বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ে এবং আবাসন খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।
২. জমির নিবন্ধনের সময় অনুমতি নেওয়া না করা
রিয়েল এস্টেট খাতের দীর্ঘদিনের একটি বড় সমস্যার সমাধান হিসেবে জমি ও ফ্ল্যাটের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অনুমতির বাধ্যবাধকতা শিথিল করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। রিহ্যাব গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে এই বিষয়টি সামনে আনে।
আগে অনেক ক্ষেত্রে জমি বা ফ্ল্যাট হস্তান্তর ও নিবন্ধনের সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নিতে হতো, ফলে নিবন্ধন প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় পড়ত এবং সদস্য ডেভেলপার ও ক্রেতাদের নানা প্রশাসনিক জটিলতার সম্মুখীন হতে হতো। রিহ্যাবের উদ্যোগে বিষয়টি নিয়ে সরকারকে অবহিত করা হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় নিয়ম শিথিল করার পদক্ষেপ নেয়। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে প্লট ও ফ্ল্যাট হস্তান্তরের সময় আগের মতো অতিরিক্ত অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা আর নেই, ফলে নিবন্ধন প্রক্রিয়া আগের তুলনায় সহজ ও দ্রুত হয়েছে।
এই পরিবর্তনের ফলে রিয়েল এস্টেট খাতের উদ্যোক্তাদের কাজের গতি বেড়েছে এবং ফ্ল্যাট ও জমি ক্রয়-বিক্রয়ের প্রক্রিয়াও আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে ক্রেতা ও ডেভেলপার উভয় পক্ষই সময় ও প্রশাসনিক জটিলতা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন। আবাসন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলে আবাসন বাজারে লেনদেন বাড়বে এবং দেশের আবাসন খাত আরও গতিশীল হবে।
৩. ড্যাপ সংশোধন
ঢাকার নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান সংশোধনের মাধ্যমে নতুন প্রকল্পে ফ্ল্যাটের সংখ্যা কমে যাওয়ার সমস্যার সমাধান আনা হয়েছে। রিহ্যাব নতুন সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে পুনরায় পরিবর্তনের জন্য সুপারিশ ও প্রস্তাবনা দিয়েছে। ইউনিট্ সংখ্যা বাড়ানোর ৩মাসের সমাধান হবে।
৪. সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি প্রতিরোধে রিহ্যাবের কঠোর অবস্থান
আবাসন খাতের উদ্যোক্তাদের দীর্ঘদিনের একটি বড় সমস্যা ছিল বিভিন্ন প্রকল্প এলাকায় সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি ও অবৈধ দাবি দাওয়া। এই সমস্যার কারণে অনেক সময় নির্মাণ কাজ ব্যাহত হতো এবং ডেভেলপারদের অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হতো। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সদস্যদের নিরাপদ ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে রিহ্যাব। রিহ্যাব থেকে সদস্যদের ফোন দিয়ে পুলিশ এর সাথে সমন্বয় করে অনেকগুলো সমস্যা সমাধান করা হয়েছে।
৫. একটি বৃহৎ আবাসিক প্রকল্পে ফি কমাতে রিহ্যাবের উদ্যোগ
রিয়েল এস্টেট খাতের ডেভেলপারদের দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল বড় আবাসিক প্রকল্পগুলোর বিভিন্ন ফি ও চার্জ কমানো। এ বিষয়ে রিহ্যাবের উদ্যোগ ও ধারাবাহিক আলোচনার ফলে একটি বৃহৎ আবাসিক এলাকার প্রকল্প সংক্রান্ত ফি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়েছে।
আগে ডেভেলপারদের প্রতি কাঠা জমির জন্য প্রায় ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফি পরিশোধ করতে হতো, যা অনেক ক্ষেত্রে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াত। রিহ্যাবের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয় করা হলে ফি কমিয়ে প্রতি কাঠা ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
৬. রেজিস্ট্রেশন খরচ কমানো
রিয়েল এস্টেট খাতে লেনদেন সহজ করতে ফ্ল্যাট ও জমি নিবন্ধনের সময় আরোপিত বিভিন্ন কর ও ফি কমানোর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিশেষ করে গেইন ট্যাক্সসহ কিছু করের হার কমানো এবং প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে রিহ্যাব সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যায়। এর ফলে আবাসন খাতে নিবন্ধন ব্যয় কমেছে এবং ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের জন্য ফ্ল্যাট বা জমি নিবন্ধন প্রক্রিয়া আগের তুলনায় সহজ ও সাশ্রয়ী হয়েছে।
৭. কঠিন সময়ে সক্রিয়তা বজায় রাখা
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে যখন এফবিসিসিআইসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী সংগঠন কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল, তখনও রিহ্যাব সক্রিয় ছিল এবং সদস্যদের স্বার্থে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিল।
৮. নির্মাণাধীন ভবনে ওয়াসা পানি বিল এবং রাজউকের বিদুৎ এর মিটার বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্টেরিট করা হয়েছে যা চলমান রয়েছে।
৯. রিয়েল এস্টেট খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন রিহ্যাব তাদের সদস্যদের কল্যাণে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো সদস্য মৃত্যুবরণ করলে তার পরিবারকে ৫ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে সদস্যদের পরিবারকে কঠিন সময়ে সহযোগিতা করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। রিহ্যাব মনে করে, সংগঠনের সদস্যরা শুধু ব্যবসায়িক অংশীদারই নন, বরং একটি বড় পরিবারের অংশ। তাই সদস্যদের কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ধরনের কল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
গত দুই বছরে রিহ্যাবের নেতৃত্বে সংগঠনকে সক্রিয় রাখা, সদস্যদের সুবিধা নিশ্চিত করা, নীতিগত প্রস্তাবনা প্রদান এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সমস্যার সমাধান এসব উদ্যোগ দেশের আবাসন খাতের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মুক্ত করেছে। সদস্যরা এবং সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে খাতটি আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হবে।




















