বিধি লঙ্ঘন করে ৩৯ জন পিআইবিতে নিয়োগের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-তে চরম প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের নিয়োগ বিধিমালা ও সরকারি প্রবিধান তোয়াক্কা না করে ২০২৪ সালের গত ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে অন্তত ৩৯ জনকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পিআইবি-র নিয়োগ বিধি অনুযায়ী ৩য় থেকে ৬ষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে পূর্বানুমতি, পরিচালনা বোর্ডের সিদ্ধান্ত এবং অন্তত তিনটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞাপন দেওয়া বাধ্যতামূলক। এরপর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করতে হয়। কিন্তু বর্তমান প্রশাসনের অধীনে এসব ধাপের কোনোটিই অনুসরণ করা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নিযুক্ত ব্যক্তিদের অনেকেরই প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা নেই। তারা মূলত প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ মহলের সুপারিশে নিয়োগ পেয়েছেন। পিআইবি-র নিয়ম অনুযায়ী পরিচালক (প্রশাসন) পদটি বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের একজন যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তার পাওয়ার কথা। এছাড়া বাকি ৩টি পরিচালক পদ তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের জন্য সংরক্ষিত। অথচ বর্তমানে এই নিয়ম ভেঙে ব্যক্তিগত পছন্দে পদায়ন করা হচ্ছে। বর্তমান মহাপরিচালক সম্প্রতি এক অভ্যন্তরীণ সভায় মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের প্রতিনিধিদের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন এবং সরাসরি ৩৯ জনকে স্থায়ী করার জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিআইবি-র একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ২৫-৩০ বছর ধরে আমরা এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছি, কিন্তু এমন নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ড আগে কখনো দেখিনি। অযোগ্য ব্যক্তিদের উচ্চপদে বসানোর ফলে প্রতিষ্ঠানের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে। এটি এখন অনেকটা ব্যক্তিগত দোকানের মতো চালানো হচ্ছে।
এদিকে নিয়োগ সংক্রান্ত এই অনিয়মের খবর জানাজানি হওয়ার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। অন্যান্য সরকারি দপ্তর ও ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, যা পিআইবি-র দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনামের জন্য হুমকিস্বরূপ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই চরম অনিয়ম বন্ধ করতে অবিলম্বে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে যোগ্য ৪ জন পরিচালক নিয়োগ দেওয়া এবং এই ৩৯ জনের অবৈধ নিয়োগের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা জরুরি। অন্যথায়, দেশের অন্যতম এই প্রশিক্ষণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি চিরতরে ধ্বংসের মুখে পড়বে।
আ.দৈ/আরএস





















