সেনাসদস্যদের সঙ্গে ঘটনার অভিযোগে তদন্তের সিদ্ধান্ত ইসির
নিজেস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে অশালীন ভাষা ও গালিগালাজের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।ঢাকা-১৭ আসনে এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে সেনাসদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং জোরপূর্বক অস্ত্র (আর্মস) নিয়ে যেতে চাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, বিষয়টি তদন্তের আওতাভুক্ত।
কেউ যদি এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হন বা সংক্ষুব্ধ হন, তাহলে তারা ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি কিংবা অ্যাডজুডিকেশন কমিটির কাছে অভিযোগ দাখিল করতে পারেন। তদন্তে যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় এবং আচরণবিধি ভঙ্গের প্রমাণ মেলে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কমিটি নির্বাচন কমিশনের কাছে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবে। কমিশন সেই সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। প্রতিটি বিষয়ই ফ্যাক্টস টু ফ্যাক্টস এবং কেস টু কেস ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে।
নির্বাচনি শৃঙ্খলা রক্ষায় কমিশনের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সারাদেশে প্রায় ৩০০ জন বিচারকের সমন্বয়ে ৩০০টি ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও অ্যাডজুডিকেশন কমিটি সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জরিমানা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও একই ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আব্দুর রহমানেল মাছউদ আরও বলেন, কোনো অভিযোগ সরাসরি কমিটির কাছে দাখিল করা হলে কিংবা গণমাধ্যম বা অন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেও সংশ্লিষ্ট কমিটি বিষয়টি আমলে নিতে পারে। তদন্ত শেষে তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রতিবেদন ও সুপারিশ পাঠাবে এবং কমিশন সে অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
শেরপুর-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর মৃত্যুর পর ওই আসনের নির্বাচন বাতিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির আগে ওই আসনে নির্বাচন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, তফসিল ঘোষণা করতে হলে কমপক্ষে ১৫ দিনের সময় দিতে হয়। এছাড়া আপিল ও স্ক্রুটিনিসহ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া রয়েছে। ফলে এই মুহূর্তে নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।
নির্বাচনি পরিবেশ সুষ্ঠু ও শৃঙ্খলাপূর্ণ রাখতে সবাইকে আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো গুরুতর বিষয়ে নির্বাচন কমিশন নিজ উদ্যোগেও বিষয়টি আমলে নিতে পারে এবং প্রয়োজন হলে একটি কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ সম্পর্কে জানতে চাইলে ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, নির্বাচন কমিশনের মূল্যায়নে সার্বিক নির্বাচনি পরিবেশ বর্তমানে ভালো আছে, তুলনামূলকভাবে সন্তোষজনক রয়েছে।
অভিযোগ দায়ের ও ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো তথ্য, অভিযোগ বা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও অ্যাডজুডিকেশন কমিটি বিষয়টি বিবেচনায় নেবে এবং তদন্ত শেষে কমিশনের কাছে সুপারিশ পাঠাবে। সেই অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, অতীতেও বিভিন্ন ঘটনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে বহু ব্যক্তিকে জরিমানা ও শাস্তির আওতায় এনেছেন।
এ ছাড়া নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য যদি নিজেই আচরণবিধি ভঙ্গ করেন, পক্ষপাতিত্ব করেন বা আইন লঙ্ঘনে জড়িত থাকেন, সে ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে অভিযোগ দায়ের করা যাবে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার।
আ.দৈ/আরএস





















