রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজউকের প্লট জালিয়াতির ৩ মামলা,হাসিনার ২১ বছর, জয় ও পুতুলের ৫ বছরের সাজা
আবুল কাশেম
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫, ১:২৫ পিএম  আপডেট: ২৭.১১.২০২৫ ১:৩৩ পিএম  (ভিজিট : ৯২)
X

রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্পে প্লট জালিয়াতি,ক্ষমতার অপব্যবহার ও তথ্য গোপনের সুনিদিষ্ট অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)করা পৃথক ৩ মামলায়  ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২১ বছরের সাজা।

 একই সাথে একটি করে মামলায় শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ৫ এবং ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫ বছরের সাজার রায় ঘোষণা করেছেন বিচারিক বিশেষ জজ আদালত। ৩ মামলায়, দুদক দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ধারা ৫(২) এর অধীনে ফৌজদারি অভিযোগ এনেছে। এর মধ্যে বিশ্বাসভঙ্গ এবং প্রতারণাসহ আরও বেশ কয়েকটি অভিযোগ প্রমাণীত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দুদকের পৃথক ৩ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিটিতে ৭ বছর করে মোট ২১ বছরের সাজা দিয়েছেন আদালত।

 তিনি বলেন, এই ৩ মামলার পৃথক দুটিতে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে পাঁচ বছর করে সাজা দিয়েছেন আদালত। 

পৃথক তিন মামলায় আসামির সংখ্যা ৪৭। তবে ব্যক্তি হিসাবে এই সংখ্যা ২৩। তবে ৩ মামলার অভিযোগ থেকেই গৃহায়নের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার খালাস পেয়েছেন। অন্য ২২ আসামির বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীআরো বলেন,শেখ হাসিনাসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় ২৮ জন; হাসিনা ও পুতুলসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা আরেকটি মামলায় ২২ জন এবং হাসিনা ও জয়সহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা অন্য মামলায় ২৭ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

তিনি বলেন,এই তিন মামলা বাদ দিলে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা এবং ভাগ্নি ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা আরেকটি দুর্নীতি মামলার রায় আগামী ১ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হবে।

 তিনি বলেন, শেখ হাসিনা, তার ভাগ্নি আজমিনা সিদ্দিক ও টিউলিপ এবং ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা আরও দুটি দুর্নীতির মামলা এখন একই আদালতে বিচারাধীন।

 রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী  জানান, তিনটি মামলার আসামি টিউলিপ তার ক্ষমতা অপব্যবহার করে রেহানা, ববি এবং আজমিনার জন্য প্লট পাইয়ে দিয়েছেন।

পূর্বাচল নিউ টাউন প্রকল্পের আওতায় প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন ১২ থেকে ১৪ জানুয়ারির মধ্যে তাদের ঢাকা সমন্বিত জেলা অফিস-১-এ ৬টি পৃথক মামলা দায়ের করে।

এদিকে দুদকের অভিযোগ, রাজউকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে শেখ হাসিনা তার ছেলে  জয়, পুতুল, বোন শেখ রেহানা, তার ছেলে ববি এবং মেয়ে আজমিনার জন্য পূর্বাচল নিউ টাউন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের কূটনৈতিক অঞ্চলে অবৈধভাবে ১০ কাঠার ৬টি প্লট অবৈধভাবে বরাদ্দ নিয়েছেন, যদিও বিদ্যমান বিধি অনুসারে তারা এর যোগ্য ছিলেন না। 

২৫ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশন ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে ছয়টি অভিযোগপত্র দাখিল করে।  ছয়টি মামলাতেই হাসিনাকে সাধারণ আসামি করা হয়েছে। পরে ৩১ জুলাই হাসিনা, রেহানা, জয়, পুতুল, ববি, টিউলিপ এবং আজমিনাসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

আরো জানা যায়, শেক হাসিনা ও তার পরিবারের ৬ সদস্য ছাড়াও অপর আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শরীফ আহমেদ, সাবেক সচিব শহিদ উল্লাহ খন্দকার এবং কাজী ওয়াছি উদ্দিন এবং সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য খুরশীদ আলম, কবির আল আসাদ, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, শামসুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, নুরুল ইসলাম এবং নায়েব আলী শরীফ; বর্তমান পরিচালক কামরুল ইসলাম; সাবেক উপ-পরিচালক হাফিজুর রহমান, হাবিবুর রহমান সবুজ, শেখ শাহিনুল ইসলাম এবং সাবেক সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম ও ফারিয়া সুলতানা।

পৃথক তিন মামলায় আসামির সংখ্যা ৪৭। তবে ব্যক্তি হিসাবে এই সংখ্যা ২৩। কিন্তু রায়ে ২২জনের বিরুদ্ধে সাজা হয়েছে। সাজা প্রাপ্তরা হলেন, শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ছাড়া অপর ২০ আসামি হলেন সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) শফি উল হক, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, রাজউকের সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) নায়েব আলী শরীফ, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) কবির আল আসাদ, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মো. নুরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) শেখ শাহিনুল ইসলাম, পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) মো. কামরুল ইসলাম, উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান, উপপরিচালক হাবিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মাদ সালাউদ্দিন। আসামিদের মধ্যে একমাত্র মোহাম্মদ খুরশীদ আলম গ্রেফতার আছেন।

আ. দৈ./ কাশেম 



Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝