ডিএনসিসির সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম গ্রেফতার, কাল আদালতে রিমান্ডের আবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদক

শত শত কোটি টাকা লোপাট, উন্নয়ন প্রকল্পের নামে দুর্নীতি ও বিদেশে অর্থ পাচারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিন্ডিকেটের অন্যতমর প্রভাবশালী সদস্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আজ বুধবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম শাখা উপপরিচালক তালেবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ডিনসিসির সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় তিনটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন চাওয়া হবে।
গণআন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম ও আত্মগোপনে চলেযান। এর তিনদিন পর দায়িত্ব নেয় নতুন সরকার। এরপর থেকে একে একে গ্রেফতার হচ্ছেন আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ও প্রভাবশালী সংসদ সদস্যরা।
জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে তৎকালীন মেয়র আনিসুল হক জয়লাভ করেন। কিন্তু তার মৃত্যুতে মেয়রের আসনটি শূন্য হওয়ার পর ২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পুনরায় উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় যাতে আওয়ামী লীগের সমর্থনে আতিকুল ইসলাম জয়লাভ করেন।
২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে পুনরায় মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন।আতিকুল ইসলাম ও তার ভাই শফিকুল ইসলাম ১৯৮৫ সালে ইসলাম গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে পোশাকখাতে ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে তিনি গ্রুপটির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ২০১৩-১৪ মেয়াদে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ডিএনসিসি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে মেয়র নির্বাচিত হন মো. আতিকুল ইসলাম। আওয়ামী সরকারের পতনের পর গত ১৮ আগস্ট ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান কার্যালয় নগর ভবনে গিয়ে জনসাধারণের ধাওয়া খান আতিকুল ইসলাম। ওই সময় তিনি নগর ভবনের পেছনের সিঁড়ি দিয়ে পালিয়ে যান।
এরপর দিন ১৯ আগস্ট আতিকুল ইসলামসহ দেশের ১২ সিটি করপোরেশনের মেয়রকে অপসারণ করে সরকার। আতিকুল ইসলামের জন্ম ১৯৬৯ সালের ১ জুলাই কুমিল্লার দাউদকান্দিতে। ১৯৮৫ সালে তৈরি পোশাক খাতে ব্যবসা শুরু করেন। আতিকের বাবা ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা। তারা পাঁচ ভাই ও ছয় বোন। তিনি সবার ছোট।
আ. দৈনিক / কাশেম




















