রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দুদকের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ মামলা
ইসলামী ব্যাংকের সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ:এস আলমসহ ৬৭ জনের নামে মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ: রোববার, ৯ নভেম্বর, ২০২৫, ৫:৩৩ পিএম  আপডেট: ০৯.১১.২০২৫ ৫:৪১ পিএম  (ভিজিট : ৬৬)
X

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর চিহ্নিত দুর্নীতিগস্ত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলমসহ ৬৭ জনের বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংক থেকে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং সিঙ্গাপুরে পাচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আজ রোববার (৯ নভেম্বর) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ গণমাধ্যমকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আজ কমিশনের এক সভায় এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলমসহ ৬৭ জনের বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংক থেকে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতে অভিযোগে মামলা দায়েরের অনুমোদন দেয়। এটি দুদকের ইতিহাসে এটি সর্ববৃহৎ মামলা। 

অনুমোদনের ফলে দুদকের ঢাকা-১ এর দপ্তরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ১৮৬০ এর ৪০৯/৪০৬/১০৯/৪২০/ ৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১২০ ধারা,দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ সালের ৫(২) এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ সালের ৪(২ ও ৩) ধারায় রেকর্ড করা হয়েছে। মামলা নম্বর-১৭ ।
 
দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড (আইবিবিএল) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধি-বিধান উপেক্ষা করে এস আলম রিফাইন্ড সুগার, এস আলম স্টিলস লিমিটেড ও এস আলম ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেডের নামে অনিয়মিতভাবে ৯ হাজার ২৮৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ঋণ অনুমোদন করা হয়, যা বর্তমানে লভ্যাংশ ও সুদসহ দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৪৭৯ কোটি ৬২ লাখ টাকায়।

 পরে এর একটি অংশ সিঙ্গাপুরসহ বিদেশে পাচার করা হয়। মামলায় এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম ছাড়াও গ্রুপের বেশ কয়েকটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও ইসলামী ব্যাংকের কিছু বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

দুদকের জনসংযোগ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আরো বলেন,দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর বিপুল অঙ্কের এই অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নির্ধারণে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

দুদকের মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের পর থেকেই ব্যাংকের বিনিয়োগ কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম দেখা দেয়। ২০২০ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ এস আলম রিফাইনড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ঋণসীমা ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা থেকে ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করে, যা ব্যাংকের মূলধনের ৩৫ শতাংশ অতিক্রম করে, যা ব্যাংক আইন বিরোধী।

 সিআইবি রিপোর্টে ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের দায় অনেক বেশি থাকা এবং আইআরআরএস স্কোর ৫০ শতাংশের নিচে থাকায় নতুন ঋণ অনুমোদন অনুপযুক্ত হলেও নিয়মবহির্ভূতভাবে বারবার ঋণসীমা বৃদ্ধি করা হয়। ব্যবসায়িক আয় ও টার্নওভার ঋণসীমার সাথে সামঞ্জস্যহীন থাকা এবং জামানত অনুপাতে মাত্র ৪০-৭০% থাকার পরও ঋণ নবায়ন করা হয়, ফলে ব্যাংক ও আমানতকারীদের অর্থ ঝুঁকির মুখে পড়ে।

দুদকের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, চেয়ারম্যান সাইফুল আলম ব্যাংকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়ে বিনিয়োগ প্রশাসন, আইটি বিভাগ ও পরিচালনা পর্ষদে প্রভাব বিস্তার করেন। তার ঘনিষ্ঠ সাবেক ডিএমডি তাহের আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে আইসিটিডব্লিউ শাখায় টর্চ ব্যাংকিং সফটওয়্যার ম্যানিপুলেশন করে অনুমোদনবিহীনভাবে ঋণসীমা বৃদ্ধি ও মেয়াদ পরিবর্তন করা হয়, যার মাধ্যমে প্রায় ৫ হাজার ৯০০ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়।

অনুসন্ধানকালে রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, মোট ১৩৪টি লেনদেনের মাধ্যমে ৯ হাজার ২৮৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকা আহসান এন্টারপ্রাইজ, ইমপ্রেস কর্পোরেশন, ইউনিক ট্রেডার্স, এগ্রোকর্ণ ইন্টারন্যাশনাল, দুলারী এন্টারপ্রাইজসহ নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয়। যেসব প্রতিষ্ঠানে পরে অর্থ স্থানান্তর করা হয় সেগুলো সাইফুল আলমের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। তার মধ্যে রয়েছে সোনালী ট্রেডার্স (স্বত্বাধিকারী: মো. শহিদুল আলম, ভাই), গ্লোবাল ট্রেডিং কর্পোরেশন (স্বত্বাধিকারী: মো. রাশেদুল আলম, ভাই), এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস এস পাওয়ার লিমিটেড, এস আলম স্টিলস, এস আলম সিমেন্ট, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল ও সোনালী কার্গো লজিস্টিকস লিমিটেড।

অভিযোগে আরও জানানো হয়, ২০২৩ সালের ৪ ডিসেম্বর ইসলামী ব্যাংক খাতুনগঞ্জ শাখার এস আলম ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেডের হিসাব থেকে ৩৭ কোটি টাকা রূপালী ব্যাংক ওআর নিজাম রোড শাখার গ্লোবাল ট্রেডিং কর্পোরেশনে স্থানান্তর করা হয়। পরদিন ৫ ডিসেম্বর ওই অর্থসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে এস এস পাওয়ার-১ লিমিটেডের একটি ব্যাংক হিসাবে জমা হয়, পরে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে ২৩,৫৮০,০০০ মার্কিন ডলার (প্রায় ২৯০ কোটি টাকা) ব্যাংক অব চায়না, সিঙ্গাপুর শাখায় এস এস পাওয়ার-১ লিমিটেডের অফশোর অ্যাকাউন্টে পাচার করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ইসলামী ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সময়ে সময়ে ইস্যুকৃত বিধি, পলিসি ও সার্কুলার উপেক্ষা করে, ক্ষমতার অপব্যবহার, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অপরাধে জড়িয়েছেন।

আ. দৈ./কাশেম



Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
অর্থ-বাণিজ্য- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝