মালয়েশিয়ার জাজিরার (এম) এনডিএস’র অর্থ আত্মসাৎ ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক

মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান জাজিরা (এম) এনডিএস বিএইচডির ২ কোটি ৫ লাখ টাকা ধাপে ধাপে আত্মসাৎ করেছে ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সেলসম্যান ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জের কালিন্দি এলাকার মো. সোহাগ (৩০)।
আত্মসাৎ করা টাকা ফেরত না দেয়ার জন্য ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের মালিকসহ তার পরিবারের সদস্যদের আসামী করে কেরানীগঞ্জ থানায় একটি মিথ্যা অপহরণ মামলা করেছে সোহাগের মা। আত্মসাৎকৃত টাকা ফেরত পেতে ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদ জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্ঠা, আইজিপিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জরুরী হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী প্রবাসী মো. আজম।
গতকাল (২ অক্টোবর) বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) নীচ তলার মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ জানিয়ে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদ জানান প্রবাসী আজমের পক্ষ থেকে তার ভাতিজা মো. আজিজুল।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মো. ফয়সাল হাওলাদার, আব্দুল লতিফ, জাহাঙ্গীর হোসেন ও আজিজুল ইসলামসহ অন্যান্যরা।
লিখিত বক্তব্যে আজমের ভাতিজা মো. আজিজুল জানান, অর্থ আত্মসাৎকারী মো. সোহাগ আজমের প্রতিষ্ঠান ‘জাজিরা (এম) এসডিএন বিএইচডি’-তে ১০ বছরযাবত সেলসম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২০ সালের করোনা ভাইরাস চলাকালীন সময়ে মার্কেটের বাকী থাকা টাকা বিভিন্ন সময় তুলে ২ কোটি ৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। সে সময় সোহাগ করোনা ভাইরাসের বন্ধ থাকায় কোনো হিসেব না দিয়ে মালয়েশিয়া থেকে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে দেখা যায় সে তার মায়ের ডাচ বাংলা ব্যাংকের একাউন্টে ৯৬ লাখ টাকা পাঠিয়েছিলেন ও বাকী টাকা তার বোনের ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা টাকা দেশে পাঠিয়েছিলেন। এ ঘটনায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মালয়েশিয়ার থানায় সোহাগের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করা হয়। পরে সোহাগের কেরানীগঞ্জ এলাকায় স্থানীয়দের শালিস বৈঠকের মাধ্যমে সোহাগের মা জয়নব বেগম নিজে বিষয়টি স্বীকার করে ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে ২২ লাখ টাকা ফেরত দেন এবং নগদ ১০ লাখ টাকা প্রদান করেন।
তিনি আর জানান, পরবর্তীতে সোহাগের মা বাকী টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্থানীয় এলাকাবাসীর মাধ্যমে তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হলে প্রবাসী আজম ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিডিয়ায় ভুয়া সংবাদ প্রচার করান। পরে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি মিথ্যা অপহরণ মামলা দায়ের করেন। এর প্রেক্ষিতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় প্রতিষ্ঠানের মালিক আজমের পক্ষে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং মানবাধিকার সংস্থায় অভিযোগ করা হয়। ঘটনার সুরাহা করতে কেরানীগঞ্জের চেয়ারম্যান বরাবর একটি আবেদন করা হয়। ঘটনার তদন্ত পূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও আত্মসাৎ করা টাকা উদ্ধারে সংশ্লিষ্টদের জরুরী হস্তক্ষেপের দাবি জানান তিনি।
আ.দৈ/আরএস




















