হাসিনার সাথে যোগাযোগ: তফসিলের পর দুটি অ্যাপ বন্ধের সিদ্ধান্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক

শেখ হাসিনার সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের যোগাযোগ এবং অনলাইন বৈঠক ঠেকাতে দুটি অ্যাপ— টেলিগ্রাম ও বোটিমের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এ দুটি অ্যাপ বন্ধ করে দেয়া হবে।
জুলাই অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সেই ফ্যাসিস্ট সরকারের বেশির ভাগ মন্ত্রী নেতা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। তারা ভারতে বসেই নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগযোগ করছেন। করছেন ভার্চুয়াল বৈঠক। এসব বৈঠকের মাধ্যমেই তিনি দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির নানা নির্দেশনা দিচ্ছেন। আর এই ভার্চুয়াল বৈঠক ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন অ্যাপ।
জানা গেছে, রাজধানীতে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল থেকে গত বুধবার ২৪৪ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের মধ্যে দেড় শতাধিক ব্যক্তি দুটি অ্যাপ ব্যবহার করে যোগাযোগ রাখতেন।
রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা—সংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় এ বিষয়টি আলোচনা হয়।
বৈঠকে আলোচনায় আপাতত রাতে ওই অ্যাপ দুটির (টেলিগ্রাম ও বোটিম) ব্যবহারে গতি কমিয়ে দেয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে সিদ্ধান্ত। সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এই দুটি অ্যাপ বাংলাদেশে বন্ধ করে দেয়া হবে।
টেলিগ্রাম ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগের একটি জনপ্রিয় অ্যাপ। টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভ রুশ বংশোদ্ভূত। অন্যদিকে কথা বলা, ভিডিও কল ও অর্থ আদান–প্রদানের জনপ্রিয় অ্যাপ বোটিম। বোটিমের প্রধান কার্যালয় যুক্তরাষ্ট্রে।
কোর কমিটির বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার যে ২৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁদের মুঠোফোন জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এতে দেখা গেছে, তাঁদের মধ্যে দেড় শ জনের বেশি টেলিগ্রাম ও বোটিম ব্যবহার করে শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ ও সভায় যোগ দিতেন।
বৈঠকে দুটি সংস্থার প্রতিনিধি জানান, সারাদেশে ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সক্রিয় করা হচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, তফসিল ঘোষণার পর তারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে পারেন। এসব আলোচনা শেষে টেলিগ্রাম ও বোটিমের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, একজন ব্যক্তির সর্বোচ্চ ৫টি সিম থাকতে পারবে। এ সিদ্ধান্ত ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করা হবে। এখন একজনের নামে ১০টি সিম নেওয়া যায়।
আ.দৈ/ওফা




















