টি ব্যাগে মিললো বিপজ্জনক ভারী ধাতু:এসডোর গবেষণা
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া জনপ্রিয় পানীয় টি ব্যাগে বিপজ্জনক ভারী ধাতুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বেসরকারি সংস্থা এনভায়রনমেন্ট ও সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (এসডো) ‘ব্রিউইং টক্সিনস: এক্সপোজিং দ্য হেভি মেটাল হ্যাজার্ড ইন টি—ব্যাগস অ্যান্ড ড্রাইয়ে লুজ টি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
সংস্থাটি তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, স্থানীয় বাজার থেকে সংগ্রহ করা ১৩টি নমুনার (১২টি ব্যাগ ও চা পাতা) ল্যাব পরীক্ষায় টি ব্যাগে বিপজ্জনক মাত্রায় ভারী ধাতুর উপস্থিতি মিলেছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর লালমাটিয়ায় এসডোর প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, নমুনা হিসেবে নেওয়া টি ব্যাগে নিরাপদ মাত্রার চেয়ে বহুগুণ বিপজ্জনক ভারী ধাতু রয়েছে। অধিকাংশ মানুষের দিনে একাধিকবার চা পানের অভ্যাসের কারণে এটি ভয়ানক স্বাস্থ্যঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অতীতে খাদ্যপণ্যের ওপর চালানো নানা গবেষণায় চাল, বেগুন, পালংশাক, মুরগি ও গরুর মাংস, রুই, তেলাপিয়া মাছসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে ভারী ধাতুর উপস্থিতি মিলেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের খাদ্যচক্রে এসব ভারী ধাতুর প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান না হলেও দীর্ঘ মেয়াদে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। নির্দিষ্ট কোনো ফসল বা খাদ্যপণ্য নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে উৎপাদনের উৎসে বিষ ছড়ানোর সুযোগ বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
এসডো গবেষণার ক্ষেত্রে দুটি ধাপ অনুসরণ করে। জনগণের সচেতনতা বোঝার জন্য ভোক্তা জরিপ এবং এক্স—রে ফ্লুরোসেন্স প্রযুক্তির মাধ্যমে ল্যাবে ধাতুর মাত্রা নির্ধারণ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পরীক্ষায় টি ব্যাগে ক্রোমিয়াম সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৯০ পিপিএম মিলেছে, যা নিরাপদ সীমার (৫ পিপিএম) চেয়ে প্রায় ৩৩৮ গুণ। পারদ পাওয়া গেছে নিরাপদ সীমার (০.৩ পিপিএম) প্রায় ৩৬০ গুণ। একইভাবে সিসা ৫১ পিপিএম (সিমা ৫ পিপিএম) ও আর্সেনিক ১৪ পিপিএম (সিমা ২ পিপিএম) পাওয়া গেছে।
গবেষকরা মনে করছেন, টি ব্যাগে এ ধরনের ভারী ধাতুর উপস্থিতি নিয়মিত চা পানকারীদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। এসডোর নির্বাহী পরিচালক সিদ্দীকা সুলতানা বলেন, চায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে এটি মানুষের জন্য শারীরিক ঝুঁকির সঙ্গে মানসিক চাপও তৈরি করবে।
গবেষণায় টি ব্যাগ থেকে চা পাতা আলাদা করার পর ভারী ধাতু অ্যান্টিমনি পাওয়া গেছে সর্বোচ্চ ১৫৪ পিপিএম। নগণ্য পরিমাণে মিলেছে ইউরেনিয়াম ও থোরিয়াম। পাশাপাশি সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে কার্যকরী আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ, কপার, জিঙ্ক ও কোবাল্টের মতো প্রয়োজনীয় উপাদানও পাওয়া গেছে।
এসডোর সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার শাহরিয়ার হোসেন বলেন, “খাদ্য শৃঙ্খলে বিষাক্ত ভারী ধাতু প্রবেশ করার পথ রোধ করার জন্য গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। তবে এর উদ্দেশ্য কাউকে দোষারোপ নয়, বরং যৌথভাবে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা।
আ.দৈ/ওফা




















