জুলাইযোদ্ধা ফাইয়াজের বড় ভাই এখন জাকসুর জিএস
নিজস্ব প্রতিবেদক

এক সময় হাতকড়া পরা সেই কিশোর আজ গর্বিত ছোট ভাই। কারণ, তার বড় ভাই হয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস)।
ঢাকা কলেজের ছাত্র হাসনাতুল ইসলাম ফাইয়াজের কথা মনে আছে? যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল যাকে। বয়স তখন মাত্র ১৭। বাংলাদেশ দলের জার্সি গায়ে, হাতে হ্যান্ডকাফ, কাঁধে কাপড়ের ব্যাগ এই কিশোরকে আদালতে নেওয়ার সেই ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়, জন্ম দেয় তীব্র সমালোচনার।
সেই ফাইয়াজ এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। আর বড় ভাই মাজহারুল ইসলাম (ডাক নাম ফাহিম) পেয়েছেন বিশাল এক স্বীকৃতি জাকসুর জিএস নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
ভাইয়ের বিজয়ে আবেগ আপ্লুত ফাইয়াজ সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, "একদিন আম্মুকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘আম্মু, তোমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ কে?’ উনি বিনা দ্বিধায় বলেছিলেন, ‘ফাহিম’। সেই আম্মুর প্রিয় মানুষ আজ জাকসুর জিএস।"
তিনি আরও লিখেছেন, "ভাইয়া সবসময় মতের ভিন্নতাকে সম্মান করে। আমি বিশ্বাস করি, শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় তিনি আপসহীন থাকবেন এবং ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষা করবেন।"
জানা যায়, মাজহারুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বিএনসিসি জাহাঙ্গীরনগর ইউনিটের সিইউও ও ক্যাডেট ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং অর্গানাইজেশন (জেইউডিও)-এর সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক ও একাডেমিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে আলোচিত আন্দোলনের সময় ভাইয়ের খোঁজে ফাইয়াজকে নির্যাতন করা হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি। "তারা আমার কাছে ভাইয়ার অবস্থান জানতে চেয়েছিল। না পেয়ে মোবাইল ট্র্যাক করেছিল। কিন্তু ভাইয়ার বুদ্ধিমত্তায় তাকে ধরতে পারেনি,"—লিখেন ফাইয়াজ।
১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জাকসু নির্বাচনে ৪৭ ঘণ্টার টানা গণনা শেষে ১৪ সেপ্টেম্বর ফল ঘোষণা করে কমিশন। এতে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মাজহারুল ইসলাম ৩ হাজার ৯৩০ ভোট পেয়ে জিএস নির্বাচিত হন।
ফাইয়াজ শেষে লেখেন, "সবাই দোয়া করবেন, যেন আমার ভাই শুধু আম্মুর প্রিয় না থেকে জাকসুর শিক্ষার্থীদের প্রিয় হয়ে উঠতে পারেন। আল্লাহ যেন তার উদ্দেশ্য সফল করেন।"
আ.দৈ/আরএস




















