জালিয়াত, ক্ষমতার অপব্যবহার সরকারি অর্থ আত্মসাৎ:
নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে শিল্পকলার সাবেক ডিজি লাকীসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বহুল আলোচিত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক মোহাম্মদ লিয়াকত আলী (লাকী) এবং পরিচালক (প্রশাসন) জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরীসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফলে জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা, মোটা অংকের বাণিজ্যের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
জালিয়াতির মাধ্যমে ১০টি পদে নিয়োগ প্রাপ্ত ২৩ জন যোগদান করে বেতনভাতা বাবদ সরকারি তহবিল থেকে গৃহীত ৮ কোটি ২৮ লাখ ৪৯৫ টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে আত্মসাৎ বা ক্ষতিসাধন করেছেন। এই অভিযোগে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ৪০৯, ৪২০, ৪৬৮, ৪৭১, ১০৯ ও ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আজ রোববার (৬ অক্টোবর) দুদকের উপপরিচালক সুমিত্রা সেন বাদী হয়ে সংস্থাটির সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি দায়ের করেন মামলা নম্বর-১। গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন, দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন।
তিনি আরো জানান, মামলার অন্য আসামিরা- শিল্পকলা একাডেমির পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী, কালচারাল অফিসার আল মামুন, মো. হামিদুর রহমান, বেগম সুদীপ্তা চক্রবর্তী, হাসান মাহমুদ, বেগম রুনা লায়লা মাহমুদ, সহকারী পরিচালক (বাজেট ও প্ল্যানিং) বেগম সামিরা আহমেদ, স্টেজ ম্যানেজার বেগম রহিমা খাতুন, গাইড লেকচারার মো. মাহাবুবুর রহমান, ইন্সট্রাকটর (সংগীত ও যন্ত্র) বেগম মীন আরা পারভীন, ইন্সট্রাকটর (নৃত্য) বেগম প্রিয়াংকা সাহা, যন্ত্রশিল্পী (গ্রেড-৩) নারায়ন দেব লিটন, যন্ত্রশিল্পী (গ্রেড-৩) মোহাম্মদ জিয়াউল আবেদীন, নৃত্যশিল্পী (গ্রেড-৩) বেগম লায়লা ইয়াসমিন, বেগম মিফতাহল বিনতে মাসুক ও বেগম সুমাইতাহ তাবাসসুম ধানম, কণ্ঠশিল্পী বেগম রোকসানা আক্তার রূপসা, আবদুল্লাহেল রাফি তালুকদার, মো. সোহানুর রহমান, বেগম আবিদা রহমান সেতু, বেগম মোহনা খাস এবং ক্যামেরাম্যান (জনসংযোগ) মো. রুবেল মিয়া।
তিনি জানান, দুদকের গঠিত অনুসন্ধান টিম দাখিলকৃত প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, লিয়াকত আলী লাকী এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরিচালক (প্রশাসন) জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার নম্বরপত্রে অসৎ উদ্দেশ্যে পরস্পর যোগসাজশে জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার উদ্দেশ্যে লিখিত পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষার নম্বরপত্রে নম্বর বাড়িয়ে অবৈধভাবে ১০টি পদে ২৩ জনকে নিয়োগ প্রদান করেছেন।
পরবর্তী সময়ে লিখিত পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ প্রার্থীদের উত্তীর্ণ করে বিভিন্ন পদে যোগদান করে তাদের বেতনভাতা বাবদ সরকারি তহবিল থেকে গৃহীত ৮ কোটি ২৮ লাখ ৪৯৫ টাকা উত্তোলন করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ বা ক্ষতিসাধন করেছেন। এই অভিযোগে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ৪০৯, ৪২০, ৪৬৮, ৪৭১, ১০৯ ও ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
আ. দৈনিক / কাশেম




















