ডিএসসিসিতে ভুয়া বিলে জ্বালানির কোটি টাকা আত্মসাৎ,দুদকের অভিযান
নিজস্ব প্রতিবেদক

জনগণের ট্যাক্স ও সরকারের টাকা পরিকল্পিতভাবে প্রতিবছর লোপাট হচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি)। প্রতিমাসে ডিএসসিসির কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দ করা গাড়ির জ্বালানির ভুয়া বিল, ভাউচার ও খরচ দেখিয়ে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের সুনিদিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ইতোমধ্যে ডিএসসিসির কর্মকর্তাদের গাড়ির জ্বালানির ভুয়া বিল, ভাউচারে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সঠিকভাবে তদন্ত ও অনুসন্ধান হলে ডিএসসিসির পরিবহন বিভাগে জ্বালানি খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের সিংহভাগই ' টপ টু বটম' কর্মকর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে লোপাটের মহোৎসবের চাঞ্চল্যকর চিত্র বেরিয়ে আসবে।
ওইসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ডিএসসিসি নগর ভবনে অভিযান শুরু করেছে। এরআগেও নানা অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের পক্ষ থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নগর ভবন গুলশানে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু অভিযান পর্যন্ত দুদকের অ্যাকশন সীমাবদ্ধ থাকে।
এদিকে আজ রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের একটি টিম ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে অভিযান চালিয়েছে। গণমাধ্যমকে দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ আকতারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের এই কর্মকর্তা জানান, ডিএসসিসির কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত সরকারি গাড়ি বাস্তবে ব্যবহার না হলেও কাগজপত্রে জ্বালানি খরচের ভুয়া বিল দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ উত্তোলনের পর আত্মসাতের সুনিদিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে আজ রোববার এ অভিযান চালানো হচ্ছে ।
তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়সংশ্লিষ্ট নথিপত্রসহ অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করছে দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিট। গত ৪ সেপ্টেম্বর একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার প্রিন্ট সংস্করণে ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন: নগর ভবন ৪০ দিন বন্ধ, তবু কোটি টাকার তেল খরচ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলনের কারণে ৪০ দিন নগর ভবনের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কর্মকর্তাদের অনেকে তখন এক দিনও অফিসে আসেননি। অথচ তাঁদের জন্য বরাদ্দ করা গাড়ির বিপরীতে প্রতিদিন ১৪-১৫ লিটার তেল খরচ দেখিয়েছেন। দক্ষিণ সিটিরই অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, অফিস বন্ধ থাকার পরও এই তেল গেল কোথায়?
আ. দৈ./কাশেম




















