রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন নিয়ে দূরত্ব বিএনপি সাথে জামায়ত এনসিপির
নির্বাচনে বাধা এলে সংকটে পড়বে দেশ
শাহীন রহমান
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৫, ৮:৪২ পিএম  আপডেট: ২৬.০৮.২০২৫ ৮:৪৯ পিএম  (ভিজিট : ১৫৯)
X

দেশে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার পর প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির সাথে দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছে জামায়াত ও এনসিপির। ফলে আগামী নির্বাচন নিয়েও তৈরি হয়েছে শঙ্কা। জুলাই আন্দোলনে মুল ভুমিকা রেখেছিল মুলত এই তিন শক্তি। দিন যত যাচ্ছে নির্বাচনকে সামন্যে রেখে তাদের মধ্যে অনৈক্য ততই বাড়ছে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই অনৈক্যের সুযোগ কাজে লাগাতে পারে পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তি। আওয়ামী লীগ ভারতের সমর্থন নিয়ে ফের ক্ষমতায় ফেরার ছক কষছে। ইতোমধ্যে দলটির নেতা আরাফাত সেটি প্রকাশ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন। তারা বলেন এর পেছনে ভারতের এক ধরনের প্রছন্ন সমর্থন রয়েছে। এ অবস্থায় দলগুলোর মধ্যে ইস্পাত কঠিন ঐক্য না থাকলে আগামীতে কঠিন বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারে দেশ।

দিন যতই ঘনিয়ে আসছে নির্বাচন ঘিরে ক্রমেই জটিল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। জামায়াত এবং এনসিপি প্রকাশ্যে নির্বাচনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম মালয়েশিয়া সফরে গিয়ে বলেছেন ফেব্রুারিতে নির্বাচন হবে বলে তিনি মনে করেন না। অপর দিকে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবীতে অনড় রয়েছে জামায়ত। এনসিপিও তাদের সুরেই কথা বলছে। জুলাই বাস্তবায়ন নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়েছে।  এ অবস্থা দেশের জন্য সুখকর নাও হতে পারে।

বিশেজ্ঞরা বলছেন অভ্যূত্থানে আওয়ামী লীগের পতন হলে সুদূর প্রসারি উদ্দেশ্য নিয়ে ভারত সেদেশে তাদের আশ্রয় দিয়েছে। কারণ তারা এই পতন মেনে নিতে পারেনি। এরপর থেকে বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কে অবনতি হয়েছে। আগাগোড়াই আওয়ামী লীগকে ব্যবহার করে সুবিধা আদায় করেছে। দেশের জনগনের সাথে সম্পর্কে গুরুত্ব দেয়নি। আগামীতেও তারা আওয়ামী লীগে বিকল্প কাউকে ভাবছে না। ফলে রাজনীতিতে পুনর্বাসন ও ক্ষমতায় ফেরাতে এক ধরনের মরিয়া। এ কারণে ভারতের মাটিতে বসে নির্বিঘ্নে রাজনৈতিক কর্মকান্ড চালালেও দেশটি রহস্যজনক নিশ্চুপ। 

সরকার ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে। কিন্তু ভারত এবং আওয়ামী লীগ নির্বাচান বানচালে নানা চেষ্টা করে যাচ্ছে। কারণ তারা জানে একবার নির্বাচন হয়ে গেলে আওয়ামী লীগের ফেরার সুযোগ নেই। নির্বাচন না হলে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি হবে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাজনীতি ও ক্ষমতায় ফেরার স্বপ্ন দেখছে পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তি। এর  পেছনের কারিগর হিসেবে কাজ করছে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’। তারা বিভিন্ন বিভিন্ন ভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। সহযোগি হিসেবে সহযোগিতা করছে আওয়ামী লীগের রেখে যাওয়ার প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।

এ কারণেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন এ মুহুর্তে দেশে নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন। নির্বাচনের বিরোধীতা মানে দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যাওয়া। সেই সাথে আওয়ামী লীগকে ফেরার পথ সুগম করে দেয়া। মুলত জামায়ত ও এনসিপির অবস্থান আওয়ামী লীগ ও ভারতের  গেম প্লানকেই সুবিধা করে দেবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন যে কোনভাবে নির্বাচন হলে বিএনপির সরকার গঠন করবে। অপর দিকে জামায়াত এনসিপি বা অন্য দলের জনসমর্থন নেই বললেই চলে। তবে গণঅভ্যূত্থানের পর থেকে প্রশাসনের জামায়াতিকরণ করা হয়েছে। মুলত ড. ইউনূস দেশের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে জামায়াতে। জামায়াতদ এই নিয়ন্ত্রণ হারাতে চায় না। তারা জানে নিবাচনে বিএনপি ক্ষমতায় সেই সাজানোর প্রশাসন উলোট-পালট করে দেবে। অপর দিকে এনসিপি একটি নবগঠিত দল। এখনো গুছিয়ে উঠতে পারেনি। নির্বাচন হলে তাদের  ভরাডুবি নিশ্চিত। এটা জানার পর তারা জামায়াতের সুরেই কথা বলছে। দু’দল পিআর পদ্ধতিতে চেয়ে নির্বাচনের বিরোধীতা করছে।

তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন ফেব্রুয়ারিতে যারা নির্বাচনের বিরোধীতা করবে তারা রাজনীতি থেকে মাইনাস হয়ে যাবে। সরকারও ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের পূর্ণ প্রস্তুতি শুরু করেছে। মালয়েশিয়া সফরে সময় ড. ইউনূস বলেছেন ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে। এমনকি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সম্মেলনেও তিনি একই কথা বলেছেন । তার প্রেসসচিবও বলেছেন ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ঠেকানোর কোন শক্তি দেশে নেই। মুলত এ কারণে সরকারের  সাথেও দূরত্ব বাড়ছে এনসিপি ও জামায়াতের।

জানা গেছে গত এক বছরে আর্থিক পুনগঠনসহ বিভিন্ন সেক্টরে ইউনূস সরকার ব্যাপক  দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে।  কিন্তু আইন শৃঙ্খলা রক্ষায়স রকার এখনো ব্যর্থ।  ফলে ‘মব’ কালচারে ভীত সাধারণ মানুষ। সরকারও ব্যাপক সমালোচনার মুখে। ফলে বিদেশে ড. ইউনূসের যে সুনাম তা নষ্ট হওয়ার পথে। এ কারণে তিনি নির্বাচন দিয়ে দ্রুত সরে যেতে চান। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি পত্রিকায় নিবন্ধন লিখে বিষয়টি আরও পরিষ্কার করেছেন। উল্লেখ করেছেন আগামী সরকারের কোন পদেই তার থাকার ইচ্ছা নেই। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তবে আন্দোলন ভূমিকা রাখা এনসিপি ও জামায়াতের অবস্থান নির্বাচন নিয়ে এক ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

তাদের সুরেই কথা বলছে পলতক আওয়ামী লীগ। তারাও চায় না এই মুহুর্তে দেশে কোন নির্বাচন হোক। বিশেষ করে অভ্যূত্থানে আওয়ামী শক্তির পতন ভারতের জন্য কূটনৈতিক বিপর্যয়। তারা বিষয়টিকে ভালোভাবে নেয়নি। অভ্যুত্থানে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের কয়েক হাজার নেতাকর্মীর ভারতে আশ্রয় তেদয়া হয়েছে। সেখান থেকেই তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। সরকার উৎখাতের নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। কার্যালয় খুলে রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করছে। জানা গেছে ভারত সরকরের আশ্রয় প্রশ্রয়ে তারা সেখানে নির্বিঘ্নে কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। ভারতও মোক্ষম সময়ের অপেক্ষায়। সুযোগ পেলেই আওয়ামী লীগকে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরাতে চায়। যদিও ভারত এসব অভিযোগ অস্বীকার করছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের এই কর্মকান্ড খোদ সেদেশের পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। 

আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আরাফাতসহ তাঁর আরও কয়েক হাজার অনুগামী ভারতে বসে ভারতের মদদে সে লক্ষ্য পূরণে দিন রাত কাজ করে চলেছেন, ভারতীয় পত্রিকা দ্য প্রিন্ট সে কথাও জানিয়েছে। ভারতের সমর্থন ও সহযোগিতা ছাড়া এর কোনোটাই সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।  সম্প্রতি দেশে সেনাবাহিনীর একজন কর্মরত অফিসারের নেতৃত্বে শ চারেক আওয়ামী কর্মী নাশকতামূলক কাজের প্রশিক্ষণের তথ্য ফাঁস হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন বলছেন ভারতের সবুজ সংকেত ছাড়া খোদ রাজধানীতে এমন কর্মকান্ডের পরিচালিত হয়েছে তা ভাবার কোন অবকাশ নেই। এ অবস্থায় দলগুলোর মধ্যে অনৈক্য আগামীতে দেশ পরীক্ষার সম্মুখিন হতে পারে। ইতোমধ্যে আরাফাত বলেই দিয়েছেন তারা অচিরেই ক্ষমতায় ফিরছেন। সে অনুযায়ি প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এটা নিছক কথার কথা নয় বলেই অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন আওয়ামী সমর্থকেরা এই যুক্তি দিয়ে থাকেন, অন্তর্বর্তী ইউনূস সরকার অবৈধ। ফলে তাঁকে হটানোর দাবিটা তাঁদের চোখে মোটেই অগণতান্ত্রিক নয়। কিন্তু সরকার গঠনের লক্ষ্যে পরবর্তী নির্বাচন যদি একবার নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, হাসিনার বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে। সেই বিবেচনায় স্বাভাবিকভাবেই হাসিনা লক্ষ্য হবে এই নির্বাচন ঠেকানো। সরকার এই বিপদ সম্পর্কে অবগত। অন্যথায় তাঁরা ভারতের কাছে আওয়ামী তৎপরতার প্রতিবাদ জানাতেন না। কিন্তু তাঁদের দায়িত্ব শুধু এই প্রতিবাদ জানানোর মধ্যে শেষ করলে চলবে না। বিষয়টা আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরতে হবে। সবাইকে জানাতে হবে, দেশের ভেতরে, দেশের বাইরে বাংলাদেশকে নিয়ে এক ষড়যন্ত্রের ছক পাতা হচ্ছে।


আ. দৈ. /কাশেম/ এস রহমান






Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝