দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগাতে দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদান ও তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রবিবার (১ নভেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, যুবসমাজ দেশের সবচেয়ে মূল্যবান মানবসম্পদ এবং জাতীয় উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি। তিনি আরও বলেন, শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়া যাবে না। দেশের সক্ষমতা জোরদার ও স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিতে বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে সর্বোত্তমভাবে কাজে লাগাতে হবে। মির্জা ফখরুল তরুণদের কর্মমুখী করে গড়ে তোলা এবং উৎপাদনশীল দক্ষতায় দক্ষ করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন, যাতে তারা জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারেন।
নারী উদ্যোক্তাসহ তরুণ উদ্যোক্তাদের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সীমিত পুঁজি নিয়েও অনেকে সফলভাবে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করছেন এবং পণ্য রপ্তানি করছেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের স্বাবলম্বী হতে সরকারকে যথাযথ প্রশিক্ষণ ও ন্যূনতম আর্থিক সহায়তা দিতে হবে। তিনি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যক্রম সারা দেশে সম্প্রসারণেরও আহ্বান জানান, বিশেষ করে প্রশিক্ষণ ও ঋণসুবিধা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি, যাতে আরও বেশি তরুণ এসব সুবিধা নিতে পারেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে প্রয়োজনভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার দিকে যেতে হবে। এ ক্ষেত্রে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠাতে পারলে বাংলাদেশ আরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারবে। এ জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
বায়োগ্যাসের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ প্রযুক্তি গ্রামীণ পরিবার, বিশেষ করে গবাদিপশু পালনকারী পরিবারগুলোকে পশুর বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনে সহায়তা করতে পারে। এর ফলে দেশের জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপও কমবে। তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তি বাড়তে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি এ সমস্যা মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, বেকারত্ব ও হতাশা মাদকাসক্তির অন্যতম কারণ। তাই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। নারীর প্রতি সহিংসতা, যৌতুক ও সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে তরুণদের রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। এসব সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে এলাকাভিত্তিক সংগঠন ও আন্দোলন গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি।
শিক্ষা, কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা হওয়া এবং নেতৃত্বে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে যুবনারীদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। দেশের রাজনৈতিক উত্তরণের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তা জাতীয় উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে সংসদকেন্দ্রিক রাজনীতিতে মনোযোগ দেওয়ার এবং সংসদে আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সমস্যার সমাধান করার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।
জাতীয় যুব পুরস্কার ও যুব স্বেচ্ছাসেবক পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাদের অর্জন অন্য তরুণদের অনুপ্রাণিত করবে। রাষ্ট্রপতি তরুণদের কখনও হাল না ছেড়ে আত্মনির্ভরশীল, দক্ষ, প্রযুক্তিনির্ভর ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘কখনও হাল ছাড়বে না। আমরা লড়াই করব, আমরা এগিয়ে যাব।’
এদিন অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. আবুল খায়ের ভূঁইয়া, ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন। সংবর্ধনা শেষে রাষ্ট্রপতি সম্মেলনকেন্দ্রে স্থাপিত যুব কার্যক্রমের প্রদর্শনী স্টল ও চাকরিমেলা পরিদর্শন করেন।
আ.দৈ/এসআর




















