এনসিপির নতুন কমিটিতে ফের যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ মাহদি
ডেস্ক নিউজ

মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদিকে ফের মূল্যায়ন করা হয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে আবারো কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক পদে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে । দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন কেন্দ্রীয় কমিটিতেও তিনি একই পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রক্রিয়ায় শুরু থেকেই সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন আশরাফ মাহদি। অভ্যুত্থানের পর গঠিত জাতীয় নাগরিক কমিটির সার্চ কমিটির সদস্য হিসেবে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে তার অভ্যুত্থান-পরবর্তী আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনি জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এনসিপি গঠনের পর দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি তিনি রাজনৈতিক লিয়াজোঁ কমিটি ও শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য হিসেবেও কাজ করেন। বর্তমানে মূল দলের দায়িত্বের পাশাপাশি এনসিপির সহযোগী সংগঠন ‘ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স’-এর আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
রাজনৈতিক জীবনে দীর্ঘ দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন মাওলানা আশরাফ মাহদি। ২০১৭ সালে অমর একুশে বইমেলা প্রাঙ্গণ থেকে তিনি গুমের শিকার হয়ে দেশব্যাপী আলোচনায় আসেন। পরবর্তীতে ২০২০ সালে মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে দুবাই ট্রানজিট থেকে তাকে দেশে ফেরত এনে গ্রেপ্তার করা হয়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনা ও বিরোধিতার কারণে তিনি একাধিক মিথ্যা মামলা ও কারাবরণের শিকার হন। ওই সময় তাঁর গ্রেপ্তারের ঘটনায় দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম সমাজ ছাড়াও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।
ইসলামী রাজনীতির মধ্য দিয়ে আশরাফ মাহদির রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। ইসলামী ঐক্যজোটের সাবেক চেয়ারম্যান ও হেফাজতে ইসলামের অন্যতম শীর্ষ নেতা প্রয়াত মুফতি ফজলুল হক আমিনীর দৌহিত্র আশরাফ মাহদি ছাত্রজীবনে ইসলামী ছাত্র খেলাফতের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালের ঐতিহাসিক শাপলা চত্বরের আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানেও তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় ‘সাধারণ আলেম সমাজ’-এর ব্যানারে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের সংগঠিত করতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।
আশরাফ উদ্দিন মাহদি বাংলাদেশের স্বনামধন্য কওমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামেয়া কুরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগ থেকে দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স সমমান) ও ইফতা সম্পন্ন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি মিসরের ঐতিহ্যবাহী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামী আইন ও আইনবিজ্ঞানে দ্বিতীয় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
অভ্যুত্থানের পর তরুণ আলেমদের ঐক্যবদ্ধ করার প্রয়াসে ‘তরুণ আলেম প্রজন্ম-২৪’ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হন আশরাফ মাহদি। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন ও প্রকাশ করা হয়।
আ.দৈ./একে




















