৪০ হাজার বাহিনীও ব্যর্থ, ‘ককরোচ’ নিয়ে চাপে মোদি সরকার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলন দমনে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা, গণআটক ও মেট্রো পরিষেবায় বিধিনিষেধের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নামে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতমূলক ভূমিকার কারণে ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
শনিবার যন্তর মন্তরে কর্মসূচির অনুমতি না দেওয়ার পর দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় পুলিশি বাধা, ব্যারিকেড ও আটক অভিযান চলে। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৪০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয় এবং আটক ব্যক্তির সংখ্যা সাত হাজার ছাড়িয়ে যায়।
আন্দোলনের তিন নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটকের পর রোববার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত এক বছর শান্তি বজায় রাখার শর্তে তাঁদের মুক্তির নির্দেশ দেন। তবে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি।
রোববার সুপ্রিম কোর্ট শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার ও সাধারণ মানুষের চলাচল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। আদালত মেট্রো ও রেল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা, ইন্টারনেট চালু করা এবং যাতায়াতের পথে অপ্রয়োজনীয় বাধা সরানোর নির্দেশ দেয়। দিল্লির ৩০৩টি মেট্রো স্টেশনের মধ্যে ৪৫টি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
দিল্লির বাইরেও আন্দোলনের সমর্থনে বিক্ষোভ হয়েছে। মুম্বাইয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় অভিনেতা ইমরান খানসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়। বেঙ্গালুরুও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া দিল্লিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, পিনারাই বিজয়ন ও মানিক সরকারের মতো বিরোধী নেতাদের আটকের ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী আন্দোলনকারীদের পাশে থাকার কথা জানিয়ে তরুণদের প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অরবিন্দ কেজরিওয়ালও কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন।
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে বিতর্কের মধ্যে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর এখন দিল্লিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নাগরিক অধিকার রক্ষার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
আ.দৈ/আরএস




















