দ্য হিন্দুকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির
'তারেক রহমানের দিল্লি সফরের প্রধান চ্যালেঞ্জ হাসিনার কর্মকাণ্ড'
ডেস্ক নিউজ

২০২৪ সালে ছাত্র জনতার গণআন্দোলনে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । এরপর থেকে ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনার এই দেশের বিরুদ্ধে নানা কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছন।
এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের পরিকল্পনার ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতাদের কর্মকাণ্ড।
এসব বিষয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির গতকাল সোমবার (৫ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন।
ঢাকায় সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এর ফাঁকে হিন্দুর পক্ষ থেকে প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ‘নবনির্বাচিত সরকারের চ্যালেঞ্জগুলো’ ভারতের উপলব্ধি করা প্রয়োজন।
নির্বাসিত আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতাদের কর্মকাণ্ড ভারতের জন্য সহায়ক হবে না বলেও উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবির।
শেখ হাসিনা ও তাঁর লোকজনকে সংযত রাখতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সফরটি দ্বিপক্ষীয় হবে, তবে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে আমরা সেগুলো কাটিয়ে উঠব। প্রধান চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রে আমরা খুব বেশি কিছু চাইছি না। শেখ হাসিনা ও তাঁর লোকজন দিল্লিতে অবস্থান করছেন এবং তাঁরা দিল্লিতে বসে আরেকটি দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। এতে ভারতেরও কোনো লাভ হচ্ছে না।’
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থান দমনের সময় প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যার অভিযোগ করেন হুমায়ুন কবির। তাঁকে ‘একজন সন্ত্রাসী’ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের মানুষের অতীতের সঙ্গে একটি ‘পরিষ্কার বিচ্ছেদ’ প্রয়োজন। কারণ, ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাতের প্রক্রিয়ায় তাঁরা জীবন উৎসর্গ করেছেন।
প্রতিমন্ত্রী অবশ্য বলেছেন, ভারতের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং ঢাকায় এ আলোচনাকে স্বাগত জানানো হয়েছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ঢাকার কাছে অগ্রাধিকার উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা কিছু ইতিবাচক লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি, যেহেতু ভারত তাঁদের সংযত রাখার চেষ্টা করছে। এটাই দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক রীতি। যদি তাঁদের (হাসিনা ও তাঁর লোকজন) নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়, তাহলে (দ্বিপক্ষীয়) সম্পর্কে কোনো সমস্যা থাকবে না।’
এ ক্ষেত্রে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর ভূমিকা তুলে ধরে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘একটি অনুকূল সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সফর হবে এবং সে বিষয়ে আমি আশাবাদী। প্রধানমন্ত্রী কখনো বলেননি যে তিনি (ভারত) সফর করবেন না।’
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বকে দিল্লি-ঢাকা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে ‘বাধা’ হিসেবে বর্ণনা করে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এখানে ভারতের হাইকমিশনার একটি ভালো ভূমিকা পালন করছেন। তিনি চেষ্টা করছেন এবং আশা করি, দিল্লি তাঁর মতামত গ্রহণ করবে। তারা যদি তাঁর মতামতকে গুরুত্ব দেয়, তাহলে আমরা সব ক্ষেত্রেই সম্পৃক্ত হতে প্রস্তুত। আমরা আমাদের আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সব বিষয় নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত। তবে কিছু ‘পারস্পরিক আদান–প্রদান’ প্রত্যাশা করে।বাংলাদেশ ঢাকায় বসে কাউকে ভারতের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করতে দেবে না এবং ভারতের কাছ থেকেও তিনি একই ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘দুই সরকার যখন জাতীয় স্বার্থের কথা মাথায় রেখে আলোচনায় বসে, তখন সব বিষয়ই সমাধান করা যেতে পারে।’
বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে অংশ নিতে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের অতিথি হিসেবে হিন্দুর এই প্রতিবেদক ঢাকা সফর করছেন।
আ. দৈ./একে




















