উচ্ছেদ অভিযানে ৪ মামলা, আসামি ২ হাজার; থানার সামনে হকার-স্বজনদের ভিড়
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অন্তত দুই হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মিরপুর মডেল থানায় তিনটি এবং কাফরুল থানায় একটি মামলা হয়েছে। মিরপুর মডেল থানার ওসি হাফিজুর রহমান জানান, সিটি করপোরেশন, পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক তিনটি মামলা করা হয়েছে। প্রতিটি মামলায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন করে আসামি করা হয়েছে।
কাফরুল থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, সিটি করপোরেশনের গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
বৃহস্পতিবার মিরপুর-১০ ও মিরপুর-২ এলাকার ফুটপাতে কোনো হকারকে বসতে দেখা যায়নি। ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা উচ্ছেদের পর পড়ে থাকা ভাঙা চৌকি ও আবর্জনা সরিয়ে নিচ্ছেন। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এর আগে বুধবার সকালে মিরপুর-১০ থেকে হোপ মার্কেট পর্যন্ত ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। হোপ মার্কেটসংলগ্ন এলাকায় ভেকুর আঘাতে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে আগুন লাগলে পাঁচটি দোকান পুড়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান।
পরে হকার ও দোকানিদের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের সঙ্গেও সংঘর্ষ বাধে। ইটপাটকেল নিক্ষেপের জবাবে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
সংঘর্ষের মধ্যে ডিএনসিসির তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া এবং পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে আবার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে মিরপুর-১০ থেকে ১৩ নম্বর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাতের ভাসমান দোকান সরিয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের স্বজনেরা মিরপুর মডেল থানার সামনে ভিড় করছেন। কেউ কেউ তাঁদের স্বজনদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে অভিযোগ করছেন এবং প্রিজন ভ্যান বের হলে ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের নাম ধরে ডাকছেন।
আ.দৈ/আরএস




















