পরিবেশ রক্ষায় আলোকচিত্র অনেক শক্তিশালী: ঢাকার ডিসি ফরিদা খানম
নিজেস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম বলেছেন, পরিবেশ রক্ষায় আলোকচিত্র অনেক শক্তিশালী। একটি ছবি প্রকৃতির সৌন্দর্য যেমন প্রকাশ করে, তেমনি দূষণের ক্ষতিকর প্রভাবও মানুষের বিবেককে নাড়া দিতে পারে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে জাতীয় পরিবেশবিষয়ক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী ‘ওয়েভস অব লাইফ’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ফরিদা খানম বলেন, দেশের নদ-নদী, সমুদ্র, উপকূল ও জলাভূমি দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়াতে আলোকচিত্রের এই শক্তিকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম।
কিন্তু প্লাস্টিক ও বর্জ্যদূষণ, প্রাকৃতিক সম্পদের অপরিকল্পিত ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব প্রতিবেশ ক্রমেই চাপের মুখে পড়ছে।তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব কেবল সরকারের একার নয়। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা এবং নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। আলোকচিত্র মানুষের কাছে পরিবেশের সংকটকে সহজে বোধগম্য করে তুলতে পারে এবং দায়িত্বশীল আচরণে উৎসাহিত করতে পারে।জেলা প্রশাসক বলেন, দীর্ঘ বক্তব্যের মাধ্যমে যে বার্তা অনেক সময় মানুষের কাছে পৌঁছানো কঠিন, একটি ছবি তা অল্প সময়েই মানুষের অনুভূতি ও বিবেককে স্পর্শ করতে পারে।
প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য, মানুষের জীবনসংগ্রাম এবং পরিবেশদূষণের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে আলোকচিত্র জনমত গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ছবি ধারণ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা, যথাযথ প্রেক্ষাপট এবং পেশাগত নৈতিকতা বজায় রাখা জরুরি।পরিবেশ সংরক্ষণে তরুণদের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, তরুণদের সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে পরিবেশ রক্ষার কাজে লাগাতে হবে।
শুধু পরিবেশগত সমস্যার চিত্র তুলে ধরলেই হবে না, সেগুলোর সম্ভাব্য সমাধান খুঁজে বের করা এবং সেই বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াও প্রয়োজন। তরুণ আলোকচিত্রী, পরিবেশকর্মী ও গণমাধ্যম সমন্বিতভাবে কাজ করলে এ উদ্যোগ আরও কার্যকর হতে পারে।ঢাকা জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে ফরিদা খানম বলেন, পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সবুজায়ন এবং পরিবেশ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলা, নদী ও জলাশয়ের দূষণ প্রতিরোধ এবং বৃক্ষরোপণের মতো উদ্যোগ সফল করতে নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে।অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী আলোকচিত্রীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজনকে শুধু পুরস্কার প্রদান বা প্রদর্শনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত দায়িত্ববোধ তৈরি এবং মানুষকে কার্যকর উদ্যোগে উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যম হিসেবেও এসব আয়োজনকে কাজে লাগাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, নদী ও সমুদ্রের দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে এখন থেকেই সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে।অনুষ্ঠানে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, জলজ জীবন-জীবিকা ও উপকূলীয় দূষণ এবং জ্বালানি ও পরিবেশ—এই তিন বিভাগে মোট নয়জন বিজয়ী আলোকচিত্রীকে পুরস্কার দেওয়া হয়।‘ওয়েভস অব লাইফ’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনীর আয়োজন করে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, ইয়ুথ ফর ওশান এবং মিশন গ্রিন বাংলাদেশ।
আ. দৈ./একে




















