নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লী
মমতা-কেরজরিওয়ালসহ ৫ হাজারের বেশি আটক
ডেস্ক রিপোর্ট:

ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ঘিরে শনিবার উত্তপ্ত হয়ে উঠে রাজধানী দিল্লি। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও বামপন্থী সংগঠনগুলির ডাকে আয়োজিত কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে আটক হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং একাধিক বিরোধী দলের নেতা-কর্মী। আন্দোলনকারীদের দাবি, সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে হাজারেরও বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।
দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের কর্মসূচি থাকলেও সেখানে পৌঁছনোর আগেই বহু আন্দোলনকারীকে আটক করে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কড়া নিরাপত্তা, ব্যারিকেড এবং যাতায়াতে বিধিনিষেধ জারি করা হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জও করেছে। তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আটক ব্যক্তির সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে।
আটক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে দিল্লিতে বিক্ষোভে যোগ দিতে গিয়ে আটক হন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে দলের একাধিক নেতা, সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেনকেও আটক করা হয় বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, আম আদমি পার্টির নেতা তথা দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালও বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার পথে পুলিশের হাতে আটক হন। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে বিরোধী নেতাদের অংশগ্রহণ আটকাতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে বিরোধী শিবিরের অভিযোগ। কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন-সহ বামপন্থী নেতাদেরও আটক করার খবর সামনে এসেছে। তবে ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের আটকের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিমান থেকে আটক সিজেপির নেতৃত্ব বিক্ষোভের অন্যতম উদ্যোক্তা ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসকে দিল্লিতে পৌঁছনোর পর বিমান থেকেই আটক করা হয়। তাঁদের আটক করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়ায়। এ ছাড়া বামপন্থী ছাত্রনেত্রী নেহা বোরাকেও আটক করা হয়েছে ইউটিউবার ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার ধ্রুব রাঠিকে গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে আটক করার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। কয়েকজন আইনজীবী ও অন্যান্য আন্দোলনকারীকেও পুলিশ আটক করেছে বলে দাবি উঠেছে।
বাংলা সাহিব থেকে যন্তর মন্তর, পুলিশের বাধা
বিক্ষোভে যোগ দিতে দিল্লিতে আসা বহু মানুষ শুক্রবার রাতে গুরুদ্বার বাংলা সাহিবে আশ্রয় নিয়েছিলেন। শনিবার সকালে সেখান থেকে কয়েকশো মানুষ যন্তর মন্তরের দিকে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ওই সময় ধস্তাধস্তি ও লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটে। অনেককে বাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে, যন্তর মন্তরে জমায়েত করা কঠিন হয়ে পড়ায় নেহা বোরা সামাজিক মাধ্যমে দিল্লির অন্য জায়গায় বিক্ষোভকারীদের জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর বার্তা ছিল, পুলিশ যেখানে বাধা দেবে, সেখানেই অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ চালিয়ে যেতে হবে। সিজেপির নেতা অজিঙ্ক্য শিন্ডেও একই ধরনের আহ্বান জানান।
কেন এই বিক্ষোভ?
নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া, বিশেষত স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর), নিয়ে বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীদের আপত্তির জেরেই এই বিক্ষোভের আয়োজন। তাঁদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ায় সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই ইস্যুতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্য হল তালিকায় থাকা ভুল, পুনরাবৃত্তি ও অযোগ্য নাম চিহ্নিত করা।
ফলে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধী দলগুলির অভিযোগ এবং কমিশনের অবস্থানের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। শনিবারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লেও, বিক্ষোভকারীদের আটক এবং পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের প্রকৃত সংখ্যা, তাঁদের কোথায় রাখা হয়েছে এবং পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী সরকারি বক্তব্যের দিকে এখন নজর থাকবে।
আ. দৈ./একে/এসআর




















