গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু প্রযুক্তি বিশ্ববি.সাবেক ভিসিসহ ৮ জনের নামে দুদকের ৪ মামলা
আবুল কাশেম:

গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য (ভিসি) সহ ৮ জনের বিরুদ্ধে নিয়োগে নীতিমালা লঙ্ঘন করে সহকারী অধ্যাপক পদে আপগ্রেডেশন প্রদান, নিয়োগ/পদোন্নতি সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র গায়েব, ক্ষমতার অপরব্যবহার এবং পরস্পর যোগশাজসে মোট অংকের অর্থ আত্মসাতের সুনিদিষ্ট অভিযোগে পৃথক চারটি মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন,ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর খন্দকার নাসির উদ্দিন, তৎকালীন রেজিস্ট্রার ড.মোঃ নূরুদ্দিন আহম্মেদ, কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো: আক্কাস আলী, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তসলিম আহমেদ, সাবেক ভিসি প্রফেসর ড.খাইরুল আলম খান, সাবেক রেজিস্ট্রার মো: আব্দুস সালাম, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোরাদ হোসেন, সহকারী অধ্যাপক নাবিদ আজিজের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা দায়ের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। চার মামলায়ই সাবেক ভিসি খোন্দকার মোঃ নাসির উদ্দিন ও সাবেক রেজিস্ট্রার ড. মোঃ নূরুদ্দিন আহম্মেদকে কমন আসামি করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) কমিশনের এক সভায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/২০১/১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন,১৯৪৭ সালের ৫(২) ধারায় মামলা দায়েরের অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে। গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন দুদকের সহকারী পরিচালক জনসংযোগ কর্মকর্তা মো.তানজির আহমেদ।
তিনি আরো জানান, এই অনুমোদনের ফলে যে কোন দিন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সংম্লিষ্ট ধারায় পৃথক চারটি মামলা দায়ের করবেন অনুসন্ধানী কর্মকর্তা উপসহকারী পরিচালক মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম মিন্টু। এই অনুসন্ধানী টিমের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন উপপরিচালক মোঃ আলমগীর হোসেন।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা জানান, প্রথম মামলয় প্রভাষক নিয়োগে নীতিমালা লঙ্ঘন করে সহকারী অধ্যাপক পদে আপগ্রেডেশন প্রদান; নিয়োগ/পদোন্নতি সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র গায়েব এবং বেতনভাতা হিসেবে সরকারী ৮৩ লাখ ৪৮ হাজার ৮২০ টাকা ক্ষতিসাধন করা হয়েছে।
এই অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমানিত হওয়ায় এই মামলায় সাবেক ভিসি খোন্দকার মোঃ নাসির উদ্দিন, তৎকালীন রেজিস্ট্রার ড. মোঃ নূরুদ্দিন আহম্মেদ এবং সহকারী অধ্যাপক মো: আক্কাস আলীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/২০১/১০৯ ধারা তৎসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় একটি মামলা দায়ের হবে।
দ্বিতীয় মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, প্রভাষক নিয়োগে নীতিমালা লঙ্ঘন, নিয়োগ/পদোন্নতি সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র গায়েব করা এবং বেতনভাতা হিসেবে সরকারী ৯১ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮১ টাকা ক্ষতিসাধনের অপরাধে সাবেক খোন্দকার মোঃ নাসির উদ্দিন, তৎকালীন রেজিস্ট্রার ড. মোঃ নূরুদ্দিন আহম্মেদ এবং ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তসলিম আহমেদের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৪০৯/৪২০/ ২০১/১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হবে।
তৃতীয় মামলায় উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী রেজিস্ট্রার নিয়োগে নীতিমালা লঙ্ঘন করে উপ-রেজিস্ট্রার পদে আপগ্রেডেশন প্রদান করে বেতনভাতা হিসেবে সরকারী ১ কোটি ২৫ লাখ ৭১ হাজার ৩৬৬ টাকা ক্ষতিসাধনের অপরাধে সোবেক ভিসি প্রফেসর ড.খাইরুল আলম খান, তৎকালীন রেজিস্ট্রার মো: আব্দুস সালাম এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোরাদ হোসেনের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৭/ ৪৬৮/৪৭১/২০১/১০৯ ধারা তৎসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় একটি মামলা দায়ের হবে।
চতুর্থ মামলায় নিয়োগ/পদোন্নতি সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র গায়েব এবং বেতনভাতা হিসেবে সরকারী ৫১ লাখ ৬৮ হাজার ৯১৫ টাকা ক্ষতিসাধনের অপরাধে সাবেক ভিসি খোন্দকার মোঃ নাসির উদ্দিন, সাবেক রেজিস্ট্রার ড. মোঃ নূরুদ্দিন আহম্মেদ, এবং সহকারী অধ্যাপক নাবিদ আজিজের দন্ডবিধির ৪০৯/৪২০/২০১/১০৯ ধারা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় একটি মামলা দায়ের হবে।
আ. দৈ./একে




















