বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬,
২২ আশ্বিন ১৪৩৩
ই-পেপার

বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
গঙ্গা চুক্তি নতুনভাবে করতে হবে :বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৭ পিএম  আপডেট: ০৭.১০.২০২৬ ৭:২০ পিএম  (ভিজিট : ৪)
X

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি শুধু নবায়ন করলেই হবে না, নতুন করে চুক্তি করতে হবে। তিনি বলেছেন, এই চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজসহ বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি তিস্তাসহ সব অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন ও নদী ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশকে সমান অংশীদার করতে হবে।

আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে পলাশী চত্বরে শহীদ আবরার ফাহাদের ৭ম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের সঙ্গে ভারতের অভিন্ন অনেকগুলো নদী রয়েছে। আন্তর্জাতিক নদী আইন অনুসারেও এই নদীর ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশে পাওয়ার কথা থাকলেও গত ৫০ বছরেও বাংলাদেশ সেই ন্যায্য হিস্যা পায়নি। ভারত ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণ করে গঙ্গার পানি নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। সেটা শুধু পানি নিয়ন্ত্রণ নয়, বাংলাদেশের জনগণকে শোষণ করার একটি পরিকল্পনা, একটি হাতিয়ার।

তিনি বলেন, ফারাক্কা ব্যারেজ নিয়ে আমাদের ১৯৭৭ সালে চুক্তি করার কথা ছিল। মওলানা ভাসানী ঐতিহাসিক লংমার্চ করেছিলেন। অবশেষে ১৯৯৬ সালে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি হয়। সেই পানি বণ্টন চুক্তির ৩০ বছর মেয়াদ এ বছরের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। সেই মেয়াদ শেষ হওয়াকে ঘিরে আমাদের কাছে নতুন প্রশ্ন এসেছে। আবরার ফাহাদ যেটা চেয়েছিলেন, সেটা বাস্তবায়ন করার সময় এখন এসেছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার, বিরোধী দল এবং ভারত যে ৫ আগস্টের পর থেকে বলে আসছে, বাংলাদেশের সঙ্গে তারা সম্পর্ক চায়, বাংলাদেশকে তারা প্রতিবেশী হিসেবে দেখতে চায়, সেটা প্রমাণ করতে হবে। ভারত-বাংলাদেশের এই নতুন গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি আবার কীভাবে হচ্ছে, সেটা প্রমাণ করতে হবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের আজকের সময়ের স্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে, এটা শুধু নবায়ন করলেই হবে না। এই পানি বণ্টন চুক্তি নতুন করে স্বাক্ষরিত করতে হবে। শুধু পানি নয়, বরং নদীর যৌথ হিসাবের প্রশ্নে, নদী ব্যবস্থাপনাতেও বাংলাদেশকে অংশীদারিত্ব দিতে হবে। আমাদের দেশের নদী এই গঙ্গা, পদ্মা অথচ আমরা জানি না, এই নদীতে কত পরিমাণ, কত কিউসেক পানি আসলে প্রবাহিত হয়। এই তথ্য পর্যন্ত আমাদের সরবরাহ করা হয় না।

তিনি বলেন, যে গ্যারান্টি ক্লজের কথা বাংলাদেশ বলছে, ন্যূনতম প্রবাহ সবসময় নাব্যতা বজায় রাখার জন্য নিশ্চিত করতে হবে। যদি শুষ্ক মৌসুম আসে, যদি কোনো ঘাটতি হয়, সেই ঘাটতি ভারত-বাংলাদেশ সমানভাবে নিতে হবে। এই গ্যারান্টি ক্লজসহ এই চুক্তি নতুন করে করতে হবে।

বর্তমান সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, আবরার ফাহাদের চেতনাকে আমরা সমুন্নত করতে চাই, তাহলে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক সমতার ভিত্তিতে, ন্যায্যতার ভিত্তিতে পুনঃস্থাপন করতে হবে। ভারত যদি সত্যিকার অর্থেই চায় প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক, তাহলেই শুধু তিস্তাসহ যেসব অভিন্ন নদী রয়েছে, সেসব অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন চুক্তি সমভাবে এবং ন্যায্যভাবে সম্পাদন করতে হবে।

তিনি বলেন, আবরার ফাহাদের শাহাদাতকালে আমরা ‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগান দিয়েছিলাম। আমরা বলেছিলাম, দিল্লির আধিপত্যের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ তথা যে সার্বভৌমত্ব, সেটি আমরা অক্ষুণ্ন রাখব। বাংলাদেশের আশপাশের অঞ্চল পশ্চিমবঙ্গকে বুঝতে হবে, পশ্চিমবঙ্গের উন্নতি-সমৃদ্ধি যতটা দিল্লির ওপর নির্ভরশীল, তার চেয়ে বেশি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কিত। এটা বাংলাদেশের আশপাশের সব অঞ্চলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা একটি অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব কোনোভাবে কম্প্রোমাইজ করব না। আমাদের পানির ন্যায্য হিস্যায় আমরা একবিন্দু পরিমাণ ছাড় দেব না। এ বছর যে গঙ্গা চুক্তি হবে, সেখানে ন্যায্য হিস্যা আমাদের আদায় করতে হবে। পাশাপাশি তিস্তাসহ সব নদীর পানি বণ্টন প্রক্রিয়া, নদী ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ যাতে সমান অংশীদারিত্ব পায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা গত দুই বছরেও আবরার ফাহাদের হত্যার বিচারের রায় কার্যকর করতে পারিনি। আমরা ওসমান হাদির বিচারের রায় কার্যকর করতে পারিনি। আমরা জুলাই গণহত্যাকারীদের বিচারের রায় এখনো কার্যকর করতে পারিনি। আমাদের এই তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। এই তালিকা দীর্ঘ হওয়ার আগেই আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের রায় অবিলম্বে সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পাদন করে কার্যকর করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা খুনিদের যেই রায় হয়েছে, ফাঁসির দণ্ড, সেই রায় আমরা অবিলম্বে কার্যকর দেখতে চাই। বাংলাদেশ যদি সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পারে, আমরা মনে করি, তাহলে আবরার ফাহাদের আত্মা শান্তি পাবে। বাংলাদেশের জনগণ যে সার্বভৌমত্ব এবং মর্যাদার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে লড়াই করেছিল, যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আমরা আট স্তম্ভ এই পলাশীর মোড়ে প্রতিষ্ঠা করেছিলাম, আমাদের গণতন্ত্র, প্রতিরক্ষা, সার্বভৌমত্ব, আমাদের জাতীয় সম্পদ, সংস্কৃতি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুরক্ষার জন্য, সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব এখন আমাদের, আপনাদের সবার।

সরকারের উদ্দেশ্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকারকে বলব, আমরা এখানে আগ্রাসন বিরোধী আট স্তম্ভ প্রতিষ্ঠা করেছিলাম, যা কেবল ভারতবিরোধিতা নয়, বরং যেকোনো আগ্রাসী শক্তির বিরোধিতা করে বাংলাদেশের জনগণের অধিকার, মর্যাদা এবং স্বার্থ সুরক্ষা করা।

তিনি বলেন, শুধু বোয়িং বিমান কিনলেই চলবে না। আমরা দেখতে চাই, সরকার এই পানি, গঙ্গা চুক্তির নবায়ন বা নতুন চুক্তি কীভাবে সম্পাদন করে, বাংলাদেশের স্বার্থ কতটা আদায় করতে পারে। আমরা সেটা দেখতে চাই।

নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিলেও আমরা দেখছি, বাংলাদেশের স্বার্থ সরকার কোনোভাবেই রক্ষা করতে পারছে না। সরকার চীন যাচ্ছে, জাতিসংঘে যাচ্ছে, সব জায়গায় গিয়ে শুধু বিভিন্ন নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলছে, বৈঠকের কথা শুনছি। কিন্তু বাংলাদেশ গত সাত মাসে কী অর্জন করতে পেরেছে, এটা বাংলাদেশের জনগণের কাছে পরিষ্কার নয়।

তিনি বলেন, অবিলম্বে বাংলাদেশের জনগণের সামনে এটা পরিষ্কার করতে হবে। এই গঙ্গা চুক্তিসহ যত আন্তর্জাতিক চুক্তি হয়েছে, সেগুলো সংসদে আলোচনা করতে হবে। জনগণের স্বার্থ সুরক্ষার কথাটি মাথায় রেখেই আমরা সেই চুক্তির পক্ষ বা বিপক্ষ নেব।

আ. দৈ./একে


Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

● About Us    ● Advertisement    ● Terms & Conditions    ● Privacy Policy    ● Copyright Policy    ● Circulation    ● Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝