পাইলটদের মধ্যে হাতাহাতির অভিযোগ, সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ ইসরায়েলগামী বিমানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করানো হয়েছে। উড়োজাহাজটির দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগের পর এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট এফজেড১০৭৩ বুধবার ভোরে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করে। ফ্লাইট পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর বিমানটি জরুরি সংকেত পাঠায়। কিছুক্ষণ পর সংকেতটি ছিনতাইয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত সংকেতে পরিবর্তিত হয়। পরে সেটি আবার সাধারণ জরুরি সংকেতে ফিরে আসে।
পাইলটদের মধ্যে কী ঘটেছিল?
ইসরায়েলি স্থানীয় গণমাধ্যমে দেশটির প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, পাইলট ও সহ-পাইলটের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা বা শারীরিক সংঘর্ষের পর জরুরি সংকেত পাঠানো হয়ে থাকতে পারে। প্রায় ১৫০ জন যাত্রী নিয়ে উড়োজাহাজটির তেল আবিবে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু পরে সেটি সৌদি আরবের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানের অধিকাংশ যাত্রীই ইসরায়েলি নাগরিক ছিলেন।
বিমানে থাকা এক ইসরায়েলি যাত্রী স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, একপর্যায়ে কেবিন ক্রুরা যাত্রীদের সহায়তা চান। পরে কয়েকজন যাত্রী একজন পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং তাকে বেঁধে রাখতে সহযোগিতা করেন বলে তিনি দাবি করেন।
ছুরি দিয়ে হামলার দাবি
ঘটনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক যাত্রী জেরুজালেম পোস্টকে দাবি করেছেন, একজন পাইলট অপর পাইলটকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। ওই প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী, ককপিটের কাছাকাছি থাকা কয়েকজন যাত্রী পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করে অভিযুক্ত পাইলটকে ককপিট থেকে সরিয়ে দেন। তাঁর দাবি, বিমানের পেছনের দিকে আরও দুজন পাইলটও অবস্থান করছিলেন।
তিনি বলেন, ওই সময় তিনি তাদের দ্রুত ককপিটে গিয়ে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য চিৎকার করে অনুরোধ করেন। আহত পাইলটকে বিমানে থাকা একজন দন্তচিকিৎসক জরুরি চিকিৎসা সহায়তা দেন বলেও ওই যাত্রী জানিয়েছেন। তবে পাইলটদের মধ্যে ঠিক কী ঘটেছিল এবং ছুরি দিয়ে হামলার অভিযোগের সত্যতা কী—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
যাত্রীদের ফেরানোর উদ্যোগ
ঘটনার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সৌদি আরব থেকে ইসরায়েলি যাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান। ফ্লাইটটির গতিপথ পরিবর্তন, জরুরি সংকেত এবং তাবুকে অবতরণের ঘটনায় ঠিক কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যমে আরও তথ্য সামনে আসছে।
আ.দৈ/এসআর




















