ইরাকের শেষ সামরিক ঘাঁটি থেকেও সেনা সরাল যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরাকে নিজেদের সর্বশেষ সামরিক ঘাঁটিগুলো থেকেও সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবারের এ পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে দেশটিতে দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা মার্কিন সামরিক উপস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। তবে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর ইরাকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা শূন্যতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরান-সমর্থিত শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বাড়া এবং জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) নতুন করে সক্রিয় হয়ে ওঠার আশঙ্কার কথা বলছেন কিছু বিশ্লেষক।
২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়ে ইরাকের সঙ্গে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছিল। সেই চুক্তির ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সেনা সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি যখন শেষ হচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতের পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। ফলে এই সময়ে ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০০৩ সালে ইরাকে সামরিক অভিযান চালিয়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এর প্রায় ২৩ বছর পর দেশটি থেকে মার্কিন সেনাদের শেষ ঘাঁটিগুলোও খালি করা হলো। ২০১১ সালের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র একবার ইরাক থেকে প্রায় সব সেনা প্রত্যাহার করেছিল। তবে ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেটের উত্থানের পর জঙ্গিগোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরাকি বাহিনীকে সহযোগিতা করতে মার্কিন সেনারা আবার ইরাকে ফিরে যায়।
দুই দশকের বেশি সময় ধরে ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিতে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। চলতি বছর ইরাকে নিহত ১৮ মার্কিন সেনার মধ্যে সাতজন ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সময় প্রাণ হারিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ইরান ও তাদের মিত্ররা বিজয় হিসেবে তুলে ধরেছে। তবে ইরাকের কিছু বিশ্লেষক বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।
তাদের আশঙ্কা, মার্কিন বাহিনীর অনুপস্থিতিতে ইরাকে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় শূন্যতা তৈরি হলে ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে ইসলামিক স্টেটের মতো জঙ্গিগোষ্ঠীও সুযোগ নিয়ে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
তবে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর ইরাকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি কীভাবে বদলাবে, তা নির্ভর করবে দেশটির নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ভূমিকার ওপর।
আ.দৈ/এসআর




















