জাতিসংঘ অধিবেশনে তারেকের প্রথম সফর, আলোচনায় বাণিজ্য-পরমাণু সহযোগিতা
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকার গঠনের পর প্রথমবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউইয়র্কের এ সফরে জাতিসংঘের অধিবেশনে ভাষণ, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কর্মসূচির পাশাপাশি বাণিজ্য ও কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়ও গুরুত্ব পেয়েছে।
সফরে প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে পাঁচ দফা প্রস্তাবের পাশাপাশি বাস্তুচ্যুতির দীর্ঘসূত্রতা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সফরের অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল বিমান কেনার চুক্তি। নিউইয়র্কে বেসরকারি নয়, রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বোয়িংয়ের সঙ্গে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সই করেছে। এর মধ্যে পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ও ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা জোরদারে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে। ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে সই হওয়া এই সমঝোতায় শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবহার, নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয় রয়েছে।
সফরে রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু ন্যায়বিচার, জনস্বাস্থ্য, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, দক্ষ জনশক্তি, শিক্ষা ও প্রযুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়।
অন্যদিকে, শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিষয়টিও সফরের সময় কূটনৈতিক আলোচনায় ছিল। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন ও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলমান রয়েছে।
সব মিলিয়ে, জাতিসংঘ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম এই সফরে আন্তর্জাতিক কূটনীতির পাশাপাশি বাণিজ্য, বিমান পরিবহন ও বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের নতুন কয়েকটি দিক সামনে এসেছে।
আ.দৈ/আরএস




















