সোমবার, ২৪ জুন, ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১
সোমবার, ২৪ জুন, ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১
Ajker Dainik

শহরাঞ্চলের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ২৬ বছরেও স্থায়ী কাঠামো গড়ে উঠেনি

আজকের দৈনিক | নিখিল মানখিন 

প্রকাশিত: জুন ৯, ২০২৪, ০৫:৫৯ পিএম

শহরাঞ্চলের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ২৬ বছরেও স্থায়ী কাঠামো গড়ে উঠেনি
ফাইল ছবি-

বিদেশি ঋণ সহায়তায় অস্থায়ী প্রকল্পের ভিত্তিতে ২৬ বছর ধরে চলছে শহরাঞ্চলের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা। এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে আগামী বছর। কিন্তু শর্ত অনুযায়ী দেশের নগর প্রশাসন তৈরি করতে পারেনি শহরাঞ্চলের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার স্থায়ী কাঠামো। নিশ্চিত হয়নি অর্থের উৎস। ফলে আগামী বছরের পর শহরাঞ্চলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান মুখ থুবড়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে অর্থের যোগান না পলে কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে সেবা চালু রাখার চিন্তা ভাবনা করছে নগর প্রশাসন। 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নগরীতে সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগের বিস্তার বহুগুণে বেড়ে গেছে।  অবাসিক এলাকা,শিল্প কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হয়ে গেছে একাকার। পানি, বায়ু ও শব্দ দূষণের মাত্রা বেড়েই চলেছে। নগরমুখী মানুষের সংখ্যা চলে গেছে নিয়ন্ত্রণের বাইরে । অপ্রতুল জায়গায় গাদাগাদি করে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে নগরবাসী। শহরাঞ্চলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার তীব্র সংকট রয়েছে। ফলে প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতেও রোগীদেরকে বড় বড় হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে। 

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায় , পৃথিবীতে ইতোমধ্যে প্রায় ৩শ’ কোটির বেশি মানুষ নগরে বসবাস করছে এবং ধারণ করা হচ্ছে আগামী ২০৩০ সালে বিশ্বের শতকরা ৬০ ভাগ মানুষ শহরে অবস্থান করবে। বাংলাদেশের চিত্রও এর ব্যতিক্রম নয়। দেশের শহরে মানুষ বাড়লেও সেই তুলনায় স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সুবিধা বাড়ছে ধীর গতিতে। সঠিক পরিকল্পনার অভাবে নগর জীবন হয়ে উঠছে দুর্বিষহ ও অস্বাস্থ্যকর।

 সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া স্বাস্থ্য খাতের সমস্যাগুলো দূর করা সম্ভব নয়। স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সম্পৃক্ততা রয়েছে। আন্ত: মন্ত্রণালয় বৈঠক করে বিদ্যমান সমস্যা দূর করার চেষ্টা করা দরকার। অপরিকল্পিত নগরায়নের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে স্বাস্থ্যসেবার ওপর। অধিক জনসংখ্যার কারণে বিঘিœত হচ্ছে দেশের স্বাস্থ্যসেবা। নগর স্বাস্থ্যসেবায় একাধিক মন্ত্রণালয়ের সম্পৃক্ততা রয়েছে। নগর স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের  নিয়ন্ত্রণে থাকে না।

 স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধিনস্থ সিটি করপোরেশনগুলো এটি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। প্রতিটি সিটি করপোরেশনেই নগর স্বাস্থ্যসেবা দেখাশুনার একটি বিভাগ থাকে। নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবার পাওয়ার বিষয়টি সিটি করপোরেশনের কর্মকান্ডের উপরই নির্ভর করে থাকে। ইচ্ছে করলেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ছাড়াও নগর স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে পরোক্ষভাবে শিল্প মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়সহ আরো বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সম্পৃক্ততা রয়েছে। নগর স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ঘটাতে হলে এ সব মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সুষ্ঠু সমন্বয় থাকতে হবে। কিন্তু নগর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে  সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় না থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শহরের মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সাংবিধানিকভাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ওপর বর্তালেও এখনো পর্যন্ত সিটি কর্পোরেশনগুলোতে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে চলছে এই কাজ।  ১৯৯৮ সাল থেকে শুরু হওয়া প্রকল্পের আওতায় ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে ৬০ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ১২ টি নগর মাতৃসদনের মাধ্যমে চলছে এই কার্যক্রম।

এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সুদবিহীন ঋণের মাধ্যমে চলা এই প্রকল্পের অন্যতম শর্ত ছিলো, মেয়াদ শেষ হবার পর সিটি কর্পোরেশনগুলো নিজেই এই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর অর্থের সংস্থান করবে। অথচ আগামী বছর প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে চললেও এখন পর্যন্ত সিটি কর্পোরেশনগুলোতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কোনো স্থায়ী কাঠামো করা হয়নি। 

ইউপিএইচসিএসডিপি প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) আবুল ফয়েজ মো. আলাউদ্দিন খান বলেন, এই প্রকল্পের সফল সমাপ্তির পরে সিটি কর্পোরেশন এবং পৌরসভা এলাকায় বসবাসকারী জনগণের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়, নিজস্ব জনবলে এবং নিজস্ব অর্থে পরিচালনা করবে।
তিনি আরও বলেন, এটা আমাদের প্লানে বলা আছে। কিন্তু এখনও আমাদের সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার মেয়র মহোদয়দেরকে আমরা সেনসিটাইজ করছি। তারাও এ দায়িত্ব নিতে রাজি আছেন। তবে তাদের প্রস্তুতির অভাব আছে।  
    
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, নগরবাসীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ওয়ার্ডে অন্তত একটি কমিউনিটি ক্লিনিক করার কথা ভাবা হচ্ছে।  ৫৪টি ওয়ার্ডে ৫৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক থাকবে এবং এই ৫৪টি কমিউনিটি ক্লিনিকের রেফারেল হাসপাতাল হবে।  
 
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক যে ফিজিবিলিটি রিপোর্ট হবে। এটা এআইআইবি, এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক যেটা আছে, পুরোটা ফিজিবিলিটি করে গ্রান্টের মাধ্যমে প্রস্তুত করে আমি জমা দিয়েছি এআইডির কাছে।   

জলবায়ু পরিবর্তনের কঠোরতায় যে মানুষগুলো শহরে আসেন তাদের প্রতি উন্নত বিশ্বের কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোরও দায়বদ্ধতা আছে। তাই জলবায়ু তহবিলের অর্থ স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় হওয়া প্রয়োজন বলেও মনে করেন মেয়র।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক(প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. সামিউল ইসলাম বলেন, নগর স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সম্পৃক্ততা রয়েছে। হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা ছাড়াও সিটি করপোরেশনের অধিনে নগরীর বিভিন্ন স্থানে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রয়েছে। ওই সব কেন্দ্রগুলোতে হস্তক্ষেপ করতে পারে না স্বাস্থ্য অধিদফতর। 


আ. দৈনিক / একে/ নিখিল

Link copied!