সোমবার, ২৪ জুন, ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১
সোমবার, ২৪ জুন, ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১
Ajker Dainik
 এসএমসি ও দেশবন্ধুর ইলেকেট্রালাইট ড্রিংকস প্রত্যাহারের নির্দেশ

একমির তানভীরকে ১৬ লাখ,দেশবন্ধুর মোস্তফাকে ১২ লাখ টাকা জরিমানা বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের

আজকের দৈনিক | আবুল কাশেম:

প্রকাশিত: মে ১৯, ২০২৪, ০৬:১৬ পিএম

একমির তানভীরকে ১৬ লাখ,দেশবন্ধুর মোস্তফাকে ১২ লাখ টাকা জরিমানা  বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের
ফাইল ছবি-

একমি এগ্রিভেট বেভারেজের এসএমসি প্লাসের সকল ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিংকস এবং দেশবন্ধু গ্রুপের রিচার্জ অরেঞ্জ রিভাইড ইলেকেট্রালাইট ড্রিংকস বাজারজার থেকে দ্রুত প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত। একই সঙ্গে আদালতে তাদের ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিংকস নিয়ে মিথ্যে মুখরোচক প্রচারণা শাস্তিযোগ্য অপরাধ স্বেচ্ছায় স্বীকার করায় একমির এসএমসি  কোম্পানির মালিক তানভীর সিনহাকে ১৬ লাখ টাকা এবং দেশবন্ধু ফুড বেভারেজ লি.এর চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফাকে ১২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রোববার (১৯ মে) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে স্থাপিত বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত-২ এর বিচারক (স্পেশাল মেট্রোপলিট্টন ম্যাজিস্ট্রেট) আলাউল আকবর এই আদেশ জারি করেন।এরআগে সকালে  ওই দুই কোম্পানির মালিক আদালতে হাজির হয়ে নিজেরা দোষ/ অপরাধ স্বীকার করেন এবং জামিনের আবেদন জানান। পরে বিচারিক আদালত তাদেরকে জরিমানা করেন, বাজার থেকে তাদের সকল ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিংকস প্রত্যারের নির্দেশ দেন এবং জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন।

গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন, বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের পরিদর্শক মোহাং কামরুল হাসান। তিনি জানান, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রশাসনের অনুমোদনহীন, মুখরোচক লোভনীয় বিজ্ঞাপন মিথ্যে তথ্য প্রচার করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ওই দুই কোম্পানী স্ট্যাম্পে আদালতের কাছে এই বিষয়ে দোষ স্বীকার করে অঙ্গিকার নামা দায়ের করেছেন এবং একইসঙ্গে বাজার থেকে তাদের পণ্য দ্রুত প্রত্যাহার করবেন প্রতিশ্রুতি দেন।

উল্লেখ্য,গত মঙ্গলবার (১৪ মে) সরকারের সংশ্লষ্ট দপ্তরের অনুমোদনহীন পাঁচটি কোম্পানির ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিংকসের মালিকের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক আলাউল আকবর। সেই সঙ্গে পাঁচটি কোম্পানির মালিকদের আগামী ৫, ৬ এবং ৯ জুন আদালতে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। এসএমসি প্লাস, প্রাণের এক্টিভ, ব্রুভানা, আকেজের রিচার্জ এবং টারবো- এগুলো ওষুধ নাকি এনার্জি ড্রিংকস সে বিষয়ে তারা ব্যাখ্যা দিবেন।

 বিচারিক আদালত বিশুদ্ধ খাদ্য পরিদর্শক মোহাং কামলুল হাসান ওই ৫ কোম্পানির বিরুদ্ধে নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ এর ৩২(খ),৩৩,৩৯ ৪১, ৪২ এবং ৫৮ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ পৃথক মামলা দায়ের করেন।

 মামলায় উল্লেখ করা হয়, এই পণ্যগুলোর একটিরও অনুমোদন নেই। ওষুধ প্রশাসনও বলতে পারে না এগুলো ওষুধ না ড্রিংকস। এর মধ্যে এসএমসি প্লাসের মডেল হয়ে পণ্যর প্রসারে প্রচারণা করছেন ক্রিকেটার তামীম ইকবাল। নিরাপদ খাদ্য আইন অনুযায়ী এটি অপরাধ। আমরা বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ করতে বলেছি, শোনেনি কোনো কোম্পানি। কাজেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়। তার এই আবেদনের প্রেক্ষিতে  পাঁচটি কোম্পানির মালিককে আদালতে তলব করা হয়েছে। একমি এগ্রিভেট বেভারেজ লি, দেশবন্ধু ফুড বেভারেজ লি. প্রাণ ডেইরি লি., আকিজ বেভারেজ লি. ব্রভানা বেভারেজ লি.।

 একমি এগ্রিভেট বেভারেজ এবং এসএমসি এন্টারপ্রাইজ লি.তানভির সিনহা,দেশবন্ধু ফুড বেভারেজ লি.এর চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা,তাদের পণ্য রিচার্জ অরেঞ্জ রিভাইড ইলেকেট্রালাইট ড্রিংক এর বাজারজাত ও বিক্রয়কারী আগামী লি.(সিইও)সরজিৎ বাড়ল, প্রাণ ডেইরি লি.চেয়ারম্যান ও সিইও  আহসান খান চৌধুরী,আকিজ বেভারেজ লি. চেয়ারম্যান শেখ শামীম উদ্দিন  এবং ব্রভানা বেভারেজ লি. এর কারখানা ইনচার্জ মো. তৌহিদুল ইসলাম পিতা শহিদুল হক। তবে আদালতের পরোয়ানা পেয়ে ১৯ মে এই দুই কোম্পানি আদালতে হাজির হয়েছেন।

আ. দৈনিক/ একে

Link copied!