শুক্রবার, ২৪ মে, ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
শুক্রবার, ২৪ মে, ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
Ajker Dainik

 সোমালিয়ান জলদস্যুদের জিম্মি থেকে মুক্তি পাওয়া নাবিক নাজমুল বাড়ি ফিরলেন

আজকের দৈনিক | সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :

প্রকাশিত: মে ১৫, ২০২৪, ০৪:০৭ পিএম

 সোমালিয়ান জলদস্যুদের জিম্মি থেকে মুক্তি পাওয়া নাবিক নাজমুল  বাড়ি ফিরলেন
নিজস্ব ছবি

বাড়ি ফিরলেন সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে জিম্মি এমভি আব্দুল্লাহ জাহাজ ও ২৩ নাবিক। বাড়ি ফেরার খবর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বুধবার (১৫ মে) ভোরে সিরাজগঞ্জে নিজ গ্রামে এসে পৌছেছেন নাবিক নাজমুল হক হানিফ।

এর আগে দীর্ঘদিন সোমালিয়ান জলদস্যুদের বন্দীদসা থেকে মুক্ত হয়ে ১৪ এপ্রিল রাতে চট্রগ্রাম থেকে রওনা হয়ে  ভোরে নিজবাড়ী সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার চর-নুরনগর গ্রামে তার পরিবারের কাছে ফিরে আসে। সকাল থেকে নাজমুল হকের পরিবারে চলছে উৎসবের আমেজ। এদিকে নাজমুলকে দেখতে ভোর থেকে তার বাড়ীতে ভীড় করেন পাড়া প্রতিবেশী, আত্মীয় স্বজনেরা।

সন্তান নাজমুলকে দেখেই জড়িয়ে ধরেন তার মা নার্গিস বেগম। আদর সোহাগ করে বরণ করে নেন নিজ সন্তানকে। নাজমুলকে কে পেয়ে অশ্রু ধরে রাখতে পারেননি বাবা-মা। সন্তানকে সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় পেয়ে কান্নাজড়িত কন্ঠে নিজেদের উৎসাহের কথা জানান বাবা-মা।

নাজমুলের বাবা আবু সামা বলেন, সুস্থভাবে আমার ছেলে নাবিক নাজমুল হকসহ ২৩ নাবিককে দেশে ফিরিয়ে আনায় বাংলাদেশ সরকার ও জাহাজ কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
তিনি আরো বলেন, আমার একমাত্র ছেলে নাজমুল হক। মাত্র ২০ বছর বয়সেই জাহাজে চাকরি পাওয়ার সুবাদে পরিবারের মুখে ফুটিয়েছে হাসি নাজমুল। গত ১২ মার্চ সোমালিয়া জলদস্যুদের অপহৃত হওয়ার পর থেকেই ছেলের মুক্তির সংবাদের প্রতীক্ষায় সময় পার করেছি। ছেলেকে ফিরে পেতে আল্লাহর দরবারে নামাজ, রোজা ও দোয়া করে সময় পার করছি।

নাবিক নাজমুল হকের মা নার্গিস বেগম বলেন, দিন-রাত ছেলের ছবি এবং মোবাইলে কোনো সংবাদ এলো কিনা তা জন্য বসে থেকেছি। প্রতীক্ষার প্রহর যেন শেষ হতে চাইছে না। তিনি আরো বলেন, নাজমুল অপহৃতের পর থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ে নাজমুলের বাবা।

নাবিক নাজমুল হক হানিফ বলেন, জলদস্যুদের কাছ থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফেরার আনন্দ ঈদের চেয়েই বেশী মনে হয়েছে আমার কাছে। অনেকদিন পর দেশে ফিরে নিজ গ্রামে বাবা-মা পরিবারের কাছে আসতে পেরে আমি খুব আনন্দিত হয়েছি। নাজমুল আরো বলেন, সোমালিয়ায় দস্যুরা কথায় কথায় মাথায় বন্দুক ধরে রাখে, জাহাজে খাবার সংকট, পানি সংকট এমন নানা দুশ্চিন্তায় আমার ঘুম আসে নাই। অনেক কষ্টে দিন পার করেছে। সব সময় ভয়ে ভয়ে থাকতাম, আর আল্লাহর নিকট প্রাণ ভিক্ষা চাইতাম, অপেক্ষায় থাকতাম কখন জিম্মি দশা থেকে মুক্ত হয়ে বাড়ী ফিরে আসবে মা-বাবার বুকে।

প্রসঙ্গত, গত ১২ মার্চ ভারতীয় মহাসাগরে সোমালিয়া জলসদ্যুদের হাতে জিম্বি হয় এমভি আব্দুল্লাহর ২৩ নাবিক। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জের নাজমুল হক ছিলেন।


 
আ. দৈনিক / একে/আশরাফ

 

Link copied!